ঢাকা, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪ (দৈরাস):
আবাসিক হোটেল মানে শুধু দেওয়াল কিংবা কিছু আসবাবপত্র কিংবা কিছু পর্দা নয়৷ আবাসিক হোটেল মানে একটি রাত্রিযাপনের নির্ভর যোগ্য স্থান ও জানমালের সঠিক নিরাপত্তা প্রদান করা। অথচ রাজধানীর উত্তরায় ব্যাঙের ছাতার মত যত্রতত্র গড়ে ওঠেছে নিবন্ধনহীন আবাসিক হোটেল। এসমস্ত আবাসিক হোটেলে রাত্রি যাপন করার মতো সুযোগ-সুবিধা না থাকলেও রয়েছে দেহ ব্যবসা ও মাদক সেবনে রয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা।
বিভিন্ন সোস্যাল মাধ্যম ও রাস্তায় বিলি করা ছোট ছোট ভিজিটিং কার্ডে নিরাপত্তার কথাটি বেশ স্পষ্টভাবেই লেখা রয়েছে। কারণ খুঁজতে গিয়ে এধরনের একটি কার্ডের মুঠোফোন নাম্বারে কল করে নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে অপপ্রান্ত থেকে বলেন, আপনি আমাদের এখানে এসে ইনজয় করতে পারবেন পুলিশের কোন ঝামেলা হবে না। আমরা ঐ দিকটা ম্যানেজ করেই ব্যবসায় নেমেছি।
উত্তরায় অবস্থিত এসকল আবাসিক হোটেলের নামে গড়ে ওঠা মিনি পতিতালয়গুলোতে একাধিকবার আইন-শৃ্ঙ্খলাবাহিনীর অভিযানে হোটেল ব্যবসায়ীদের নামে মানবপাচার ও মাদক মামলা হলেও খুব সহজেই আইনের ফাকফোকড় দিয়ে এরা বেড়িয়ে এসে পুনরায় আবারো অবৈধ এসকল কর্মকান্ডে লিপ্ত হচ্ছে। এতে করে ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ।
দৈনিক ‘রাষ্ট্রীয় সংবাদ’ পত্রিকার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে তেমনই কিছু আবাসিক হোটেলের নামের অন্তরালে থাকা মাদক ও দেহ ব্যবসায় জড়িত থাকা হোটেলের তথ্য। গত মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের গরিব-ই-নেওয়াজ এভিনিউ সড়কের হোটেল ‘লা স্কাই’তে দেহ ব্যবসা, মাদক ব্যবসা ও সেবনের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুরুষ ও মহিলাসহ গ্রেফতার করা হয় ১১ জনকে। পরে তাদের নামে মানবপাচার ও মাদক মামলা ও হয়। এর কিছু দিন অতিবাহিত হতে না হতেই পুনরায় তারা অবৈধ কর্মকান্ডে আবারও লিপ্ত হয়েছে। উক্ত বিষয়ে সত্যতা জানতে তাদের হোটেল কর্তৃক দেওয়া ০১৭৭৭-৯০৯০৪০ নাম্বারে কল করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কলটি কেটে দেওয়া হয়।

ছবি : গত ১৭ নভেম্বর হোটেল লা স্কাই থেকে গ্রেফতারকৃত আসামীরা।
উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে ৯নং সেক্টরে দেহ ও মাদকের আখড়া গড়ে তুলেছেন মাদক ও দেহ ব্যবসায়ী রাহিম। তার তত্ত্বাবধানে হোটেল রাজমনি আবাসিক ও হোটেল সী-গালে প্রতি নিয়ত চলে মাদক সেবন ও দেহ ব্যবসা। উক্ত বিষয়ে রাহিমের মুঠোফোনের ০১৯১৯-৯৯৯১৩৪ নাম্বারে কল করে সত্যতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই এগুলো আমার হোটেল না। আমি এগুলোর মালিক না। অথচ হোটেল সী-গাল এর ম্যানেজার পরিচয়দানকারী হৃদয় এর মুঠোফোনের ০১৭৪২-৬৮৮৯৪০ নাম্বারে কল করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের সী-গাল হোটেল ও রাজমনি দুইটারই মালিক রাহিম সাহেব। এছাড়াও কুড়িল বিশ্বরোডে রয়েল গেস্ট হাউজ আছে। গার্ডেন সিটি নামে একটি ছিলো কুড়িল বিশ্বরোডে সেটি মামলা খেয়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। এখন আবার খোলার পক্রিয়া চলছে। দেখুন আপনারা সাংবাদিকেরা তো সবই বোঝেন আমাদের এখানে এসে চা খেয়ে যাবেন। বলে ফোন কলটি কেটে দেন তিনি।
এছাড়াও একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত ও আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর অভিযানে একাধিক মামলা হওয়া হোটেলগুলো (১) হোটেল বেইজিং আবাসিক, (২) এক্সপ্রেসমল হোটেল এন্ড রিসোর্টস, (৩) আকবর’স হোটেল হোটেলগুলো পুনরায় মাদক ও দেহ ব্যবসায় লিপ্ত রয়েছে।
উত্তরায় বসবাসকারী একজন স্থানীয় বাসিন্দা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ‘দৈনিক রাষ্ট্রীয় সংবাদ’কে জানান, আমরা আমাদের কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের নিয়ে শঙ্কায় আছি। দেশ এগুচ্ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছেলে-মেয়েদের হাতে আমাদের তুলে দিতে হচ্ছে মুঠোফোন। আর আমাদের এই উত্তরা জোনের বর্তমানে এমনই অবস্থা যে, মোবাইলের সোস্যাল মাধ্যম ওপেন করলেই বিভিন্ন কুরুচিসম্পন্ন বিজ্ঞাপন আমাদের সামনে চলে আসে। এগুলোতে ১০০% নিরাপত্তা, মডেল ও স্কুল কলেজের মেয়ে পাওয়া যায় লেখা থাকে সাথে যোগাযোগের নাম্বার ও ঠিকানাও দেওয়া থাকে। এতে করে আমরা আমাদের ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যত নিয়ে বেশ চিন্তিত রয়েছি। ছেলে-মেয়েরা না এসব পথে পা বাড়ায়।
তিনি এও বলেন, এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হবে। প্রতিটি ভবনে তল্লাশি চালিয়ে এদের অবৈধ ব্যবসাগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। তা না হলে এসমাজ নষ্ট হয়ে যাবে।
রাষ্ট্রের অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরশাসক সরকারের রেখে যাওয়া নেতা-কর্মীরাই বিভিন্নভাবে সমাজে অপরাধের বিস্তার ঘটাচ্ছে। আর এসকল অবৈধ আবাসিক হোটেল নামধারী গোপন কক্ষে যেধরনের কার্যকলাপ হয় তা সমাজে অপরাধ প্রবণতাকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনিরাপত্তা ও অবৈধ দেহ ব্যবাসার কুফল হিসেবে সমাজে বেড়ে চলেছে এইডসের প্রকোপ। অবশ্যই এদের বিরুদ্ধে স্বাধীন বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্পক্ষেপ প্রয়োজন।
চলবে…