1. admin@weeklyprekkhapot.com : admin :
প্রেম ও দ্রোহের কবি ও সাংবাদিক হেলাল হাফিজ আর নেই - জাতীয় দৈনিক নাগরিক
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লালন সাঁইয়ের মানবতা ও সম্প্রীতির দর্শন ধারণ করে মানবিক সমাজ গড়তে হবে : খাদ্যমন্ত্রী দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে শ্রী শ্রী মা ভবতাঁরা মন্দির পরিদর্শনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর গভীর শোক প্রকাশ বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী রাজার মাঠে শারদীয় দুর্গাপূজা ও শারদ মেলার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন স্কুল পর্যায়ে ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিতে চীনে যাচ্ছেন সিরাজদীখানের তানভীর ও মাহিম এলাকার উন্নয়নে নিরন্তর কাজ করে যেতে চাই : আসাদুল হাবিব দুলু পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইলসহ অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে পরীক্ষার্থীর ১ মাসের কারাদণ্ড শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপহার দিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু খাদ্যের পরিমাণ নয়, গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে : কৃষিমন্ত্রী অপতথ্যের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীগণকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর

প্রেম ও দ্রোহের কবি ও সাংবাদিক হেলাল হাফিজ আর নেই

জাতীয় দৈনিক নাগরিক ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ২৮ বার পঠিত
প্রেম ও দ্রোহের কবি ও সাংবাদিক হেলাল হাফিজ আর নেই

ঢাকা, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪ (দৈরাস):
জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রবীণ সদস্য প্রেম ও দ্রোহের কবি ও সাংবাদিক হেলাল হাফিজ আর নেই। আজ শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া জানান, শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) শাহবাগের সুপার হোম হোস্টেল থেকে তাকে অজ্ঞান অবস্থান উদ্ধার করে পিজি হাসপাতালে (বিএসএমএমইইউ) হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি বহু আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

আগামীকাল শনিবার বাদ জোহর জাতীয় প্রেস ক্লাবে নামাজে জানাজা শেষে নেত্রকোনায় নিয়ে যাওয়া হবে। পরে তাকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

হেলাল হাফিজ ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ দিয়েই মানুষের হৃদয়ে আসন করে নেন হেলাল হাফিজ। এ কাব্যগ্রন্থভুক্ত প্রতিটি কবিতার শেষে উল্লেখিত তারিখ অনুযায়ী কবিতাগুলো লেখা হয়েছে ১৯৬৯ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে।

প্রথম কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে হেলাল হাফিজ পাঠকমনে যে নাড়া দিয়েছেন, তা এখনও ইতিহাস হয়ে আছে। ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ কাব্যগ্রন্থটি এখন পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি সংস্করণ হয়েছে বইটির। যা এর আগে বাংলাদেশের কোনো কবিতার বইয়ের বেলায় ঘটেনি। এই কবিতার বইয়ের পাঠকের সংখ্যা যে অগণিত, তা বলাই বাহুল্য।

‘যে জলে আগুন জ্বলে’ কাব্যগ্রন্থই হেলাল হাফিজকে দিয়েছে অসামান্য খ্যাতি। এরপর দীর্ঘদিন আর কোনো বই বের করেননি তিনি। ২০১২ সালে ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ কাব্যগ্রন্থের কবিতার সঙ্গে কিছু কবিতা যুক্ত করে প্রকাশ করা হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতা একাত্তর’। সর্বশেষ ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয় তৃতীয় কবিতার বই ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’। কবিতার জন্য ২০১৩ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান।

এত কম কবিতা লিখে এত খ্যাতি পাওয়ার নজির বাংলাদেশের সাহিত্যে নেই।

১৯৬৫ সালে হেলাল হাফিজ নেত্রকোনা দত্ত হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৬৭ সালে নেত্রকোনা কলেজ থেকে তিনি এইচএসসি পাস করেন। ওই বছরই কবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় ১৯৭২ সালে তিনি তৎকালীন জাতীয় সংবাদপত্র দৈনিক ‘পূর্বদেশে’ সাংবাদিকতায় যোগদান করেন।

১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন দৈনিক পূর্বদেশের সাহিত্য-সম্পাদক। ১৯৭৬ সালের শেষ দিকে তিনি দৈনিক ‘দেশ’ পত্রিকার সাহিত্য-সম্পাদক পদে যোগদান করেন। সর্বশেষ তিনি দৈনিক যুগান্তরে কর্মরত ছিলেন।

কবিতায় অসামান্য অবদানের স্মারক হিসেবে হেলাল হাফিজকে ২০১৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার দেওয়া হয়। এ ছাড়াও তিনি পেয়েছেন- যশোর সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার (১৯৮৬), আবুল মনসুর আহমদ সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৭), নেত্রকোনা সাহিত্য পরিষদের কবি খালেকদাদ চৌধুরী পুরস্কার ও সম্মাননা।

কবি হেলাল হাফিজের লেখালেখির সূচনা ঘটে ষাটের দশকের উত্তাল সময়ে। ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় রচিত ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতাটি তাকে কবিখ্যাতি এনে দেয়। সাংবাদিকতা করার দরুণ কবি ওই সময়ের উত্তাল পরিবেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে পেরেছিলেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া এক শোক বার্তায় সাংবাদিক ও কবি হেলাল হাফিজের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ শোক বার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রাত গভীর সমবেদনা জানান।

সাংবাদিক ও কবি হেলাল হাফিজের মৃত্যুতে বাংলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে।

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর
  • উপমা মুদ্রন, ৭৮/১ ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
  • সর্বসত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ জাতীয় দৈনিক নাগরিক
  • অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের যেকোন লেখা, ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনী।
Theme Customized BY Shakil IT Park