বেনাপোল, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ (দৈজাস):
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ মিলেছে। জিল্লুর রহমান স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক সমাজকল্যানমন্ত্রী নুরুজ্জামানের আপন জামাতা হওয়ার সুবাদে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে গত ২০ জুলাই, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসাবে যোগদান করেন।
এর আগে তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের আনুকুল্যতায় লক্ষীপুরের ডিসি, চট্রগ্রামের ডিসিসহ খুলনার বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) এর মত গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। সর্বশেষ বাংলাদেশ স্থলবন্দরের চেয়ার দখলে রেখে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুই দফায় মোট ১১৭ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের মাধ্যমে সংস্থাটিকে আওয়ামীপন্থি লুটেরা সংস্থায় পরিনত করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে জিল্লুর রহমানের অনিয়ম ও দুর্নীতির কাজে অসহযোগীতা করলে তাকে বদলী বা সাময়িক বরখাস্ত করেন।
সর্বশেষ গত ২১ আগস্ট, ২০২৪ সালে ওজন স্কেলে কারচুপির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন, দুর্নীতি, গ্রুপি ও অফিসিয়াল গুরুত্বপূর্ন তথ্য পাচারের অভিযোগ দেখিয়ে উপপরিচালক (ট্রাফিক) মনিরুল ইসলাম এবং উপ-পরিচালক (প্ল্যানিং) মোঃ কবির খানকে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা হিসাবে সাময়িক বরখাস্ত করেন জিল্লুর রহমান।
ভুক্তভোগীরা চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতায় অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে বরখাস্ত হয়েছে বলে দাবি জানান। চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমানের ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির খবর গত ২৯ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে দেশের স্বনামধন্য টিভি চ্যানেল দেশ টিভিতে ধারাবাহিক ভাবে (৩ পর্বে) প্রচার হলেও অদৃশ্য কারনে তার তদন্ত হয়নি এখনো। তার দুর্নীতীর প্রতিবেদন (২২ আগস্ট, ২০২৪) নয়া দিগন্ত, আমাদের সময়সহ একাধিক প্রিন্ট পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশ হয়েছে।
এছাড়াও নিজ ক্ষমতায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার আন্দোলনের নস্যাতকারী ছাত্রলীগ নেত্রী ও ইডেন কলেজ শাখার নেত্রী ফাতিমা খাতুন লাভলীকে গত ৮ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরে পোস্টিং দেন।
বাংলাদেশ স্থল বন্দরের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমানের এই লাগামহীন অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন গত ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)কে চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমানের অবৈধ আয়ের অনুসন্ধান চেয়ে চিঠি দিয়েছেন বলে মুঠোফোনে নিশ্চিত করেন। আবেদনে তিনি দেশের স্বনামধন্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য দুর্নীতি তুলে ধরেছেন।