ঢাকা, ২১ আগস্ট, ২০২৪ (দৈজাস):
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মহোদয়ের উদ্যোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শহীদ ছাত্র জনতার পরিবারের জন্য এবং আহত ছাত্র-জনতার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ফাউন্ডেশন গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যা বাস্তবায়ন বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। ইতোমধ্যে যারা চিকিৎসা ব্যয় বহন করেছেন, তাদের ফাউন্ডেশন থেকে অনুদান প্রদান করা হবে।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম ইতোমধ্যে চিকিৎসাধীন ছাত্র জনতার যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন।
তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ছাত্র জনতা এবং হাসপাতালের পরিচালক ও ডাক্তারদের সাথে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতালের সামনে এম্বুলেন্স রাখা বন্ধ করা, অবৈধ দোকানপাট তুলে দেয়া, প্রয়োজন ছাড়া যত্রতত্র মানুষের ঘুরে বেড়ানো বন্ধ করা, সংক্রমণ রোধ এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ছাত্র জনতার পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিরন্তর কাজ করে চলেছে। ইতোমধ্যে আহত ছাত্র জনতার স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত যে কোন জরুরি প্রয়োজন বা অভিযোগের জন্য স্বাস্থ্য বাতায়ন (২৪/৭) নাম্বার :১৬২৬৩ এবং হেলথ ইমার্জেন্সি (০১৭৫৯১১৪৪৮৮ এবং ০১৭৬৯৯৫৪১৯২) হটলাইন নাম্বার খুলে দেয়া হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহতদের অনেকের চোখের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন পরিলক্ষিত হচ্ছে। অনেকেই আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। পঙ্গুত্ববরণের ঝুঁকিতে আছেন বহু ছাত্র জনতা। এমতাবস্থায় অনেক দেশীয় প্রতিষ্ঠান, বিশেষত বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সদস্য অনেক ঔষধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ২০/০৮/২০২৪ তারিখ বিকাল ৩.০০ টায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এক মতবিনিময় সভায় চিকিৎসাধীন ছাত্র জনতার জন্য বিনামূল্যে ঔষধ সরবরাহ এবং খুলনায় আহত এক ছাত্রের বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দায়িত্ব নেবার ইচ্ছাপোষণ করেছেন যা অত্যন্ত প্রশংসার দাবিদার। আন্দোলন আহতদের সুচিকিৎসায় আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সেবা ফাউন্ডেশনের সহায়তায় বিশেষজ্ঞ বিদেশি চিকিৎসক আনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এবং আশাবাদ ব্যক্ত করা যাচ্ছে যে এ বিষয়ে শীঘ্রই ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাবে।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছেন, আমরা চাই আমাদের কর্ম হোক সুকর্মের পরিচায়ক। তাই বছরের পর বছর যে সকল অপকর্ম আমাদের চলার পথকে বন্ধুর করে রেখেছে, সে পথকে সুপথ বানানো আমাদের সবার দায়িত্ব। দলমত নির্বিশেষে আমাদের সবার আপনাদের মন্তব্য, মতামত ও গঠনমূলক সমালোচনাই পারে এ দেশকে সঠিক পথে চালিত করতে। যেখানে কোন অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা বৈষম্য পরিলক্ষিত হবে, বিনা বাক্যব্যয়ে তার মূলোৎপাটন করা হবে। এই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা এবং পাথেয়।