ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক হয়ে কারাভোগ শেষে পৃথক প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ায় বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন ৯ বাংলাদেশি। তাঁদের মধ্যে তিনজন নারী, দুই শিশু ও চারজন পুরুষ রয়েছেন।
শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট হয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাঁদের বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হয়।
ফেরত আসা বাংলাদেশিরা হলেন—নড়াইল জেলার শহীদ মল্লিকের মেয়ে মুক্তা খানম, ইমরান শিকদারের মেয়ে খাদিজা ও আয়েশা, শহীদ মল্লিক ওরফে সাইদ মল্লিকের মেয়ে জাহানারা বেগম ও রুকসানা, খগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের ছেলে তারাপদ মণ্ডল, নিজাম মোল্লার ছেলে আশিক মোল্লা, সন্তোষ সরকারের ছেলে তন্ময় সরকার এবং বিধান চন্দ্র বাছারের ছেলে রামকৃষ্ণ বাছার। তাঁদের সবার বাড়ি নড়াইল জেলায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বেনাপোল-পেট্রাপোল শূন্যরেখায় অনুষ্ঠিত হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ পক্ষ থেকে বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের কর্মকর্তা, ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের প্রতিনিধি এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার ও রাইট যশোরের প্রতিনিধিরা তাঁদের গ্রহণ করেন।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট এনজিও সূত্রে জানা যায়, ভালো চাকরির প্রলোভনে দালালদের মাধ্যমে এসব বাংলাদেশি বিভিন্ন সীমান্তপথে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাঁদের আটক করে ভারতীয় পুলিশ। আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর পর কেউ কেউ দীর্ঘ সময় কারাভোগ করেন। পরবর্তীতে ভারতীয় মানবাধিকার সংস্থার মাধ্যমে তাঁদের হেফাজতে নিয়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়।
দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চিঠি চালাচালির মাধ্যমে তাঁদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের ট্রাভেল পারমিট প্রদান করলে সেই অনুমতিপত্রের ভিত্তিতে শনিবার তাঁরা বাংলাদেশে ফেরেন।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুর রহমান খান বলেন, ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফেরত আসা নারী, পুরুষ ও শিশুদের স্ব-স্ব পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বেনাপোল পোর্ট থানায় পাঠানো হয়েছে।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম জাতীয় দৈনিক ‘নাগরিক’কে বলেন, ফেরত আসা বাংলাদেশিদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বেনাপোলে পৌঁছালে তাঁদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁরা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের হেফাজতে শেল্টার হোমে থাকবেন।