মুন্সীগঞ্জ, ০৪ আগস্ট ২০২৬ (জাসাপ্রে):
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলায় চাঁদাবাজি ও মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে বিএনপির তিন নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সিরাজদীখান-গোডাউন বাজার সড়কের লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া জনসাধারণ চাঁদাবাজির প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় সিরাজদীখান থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি শান্ত রাখে।
মানববন্ধনে লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি বাদশা মিয়া, ব্যবসায়ী রুবেল আহমেদসহ স্থানীয় শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও লতব্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী নুর হোসেন এবং লতব্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান হারুন ভূঁইয়া স্থানীয় ইটভাটা ও মাটি ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করেছেন। তাঁদের দাবি, চলতি মৌসুমে ব্যবসা শুরু করতে গেলে প্রথমে মাটিকাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে আব্দুল্লাহপুরে এম হায়দার আলীর কার্যালয়ে ডেকে ৬০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
বক্তাদের ভাষ্য, পরে সমঝোতার ভিত্তিতে দুই বছরে ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা রাজি হন এবং এর মধ্যে ২০ লাখ টাকা পরিশোধও করা হয়। কিন্তু বাকি টাকার জন্য নিয়মিত ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করে বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিয়ে লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন বরাদ্দ ও ত্রাণসামগ্রীও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। এতে জনপ্রতিনিধিরা সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলী।
তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার মাদক, সন্ত্রাস ও অবৈধ মাটিকাটার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কাজ করছি। সে কারণেই একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। মানববন্ধনে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। আমি এর প্রতিবাদ জানাই।
অভিযোগের বিষয়ে হাজী নুর হোসেন ও ওসমান হারুন ভূঁইয়ার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধনের প্রতিবাদে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন তাৎক্ষণিক একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে।