ঢাকা, ০১ আগস্ট ২০২৬ (জাসাপ্রে):
ঢাকার প্রায় অর্ধেক এলাকার রাস্তা হচ্ছে আবদুল্লাহপুর-কুড়িল-বাডডা-পল্টন। আবদুল্লাহপুর বা কুড়িল থেকে বাডডা ও কাকরাইল হয়ে পল্টন পর্যন্ত সড়কটি রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ করিডোর। এই পথে শুধু ঢাকার অভ্যন্তরীণ যানবাহনই নয়, দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চল থেকে আসা বিপুলসংখ্যক বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। ফলে দিনের অধিকাংশ সময়ই এই সড়কে তীব্র যানজট লেগে থাকে, যা রাজধানীর অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং জনজীবনের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বাস্তবতা হলো, কুড়িল থেকে কাকরাইল বা পল্টন যেতে অনেক সময় তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত লেগে যায়। একজন কর্মজীবী মানুষ যদি অফিসে যেতে চার ঘণ্টা এবং ফিরতে আরও চার ঘণ্টা ব্যয় করেন, তবে প্রতিদিন প্রায় আট ঘণ্টা শুধু রাস্তাতেই নষ্ট হয়। এতে কর্মক্ষমতা কমে যায়, মানসিক চাপ বাড়ে, পারিবারিক জীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ে এবং জাতীয় উৎপাদনশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রাজধানীর দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা এবং যানবাহনের সংখ্যা বিবেচনায় শুধুমাত্র সড়ক সম্প্রসারণ বা ফ্লাইওভার নির্মাণ দীর্ঘমেয়াদে যথেষ্ট নয়।
একটি আধুনিক, দ্রুতগতির এবং গণমুখী পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই গুরুত্বপূর্ণ করিডোরে মেট্রোরেল নির্মাণ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। মেট্রোরেল চালু হলে যাত্রাসময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে, যানজট হ্রাস পাবে, জ্বালানি সাশ্রয় হবে, পরিবেশদূষণ কমবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
সরকার ইতোমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মেট্রোরেল সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় কুড়িল–কাকরাইল–পল্টন করিডোরকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। কারণ এই সড়কটি রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পথ।
কোটি মানুষের দুর্ভোগ লাঘব, সময়ের অপচয় রোধ এবং ঢাকার টেকসই যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কুড়িল থেকে কাকরাইল ও পল্টন পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক—এটাই রাজধানীবাসী এবং এই পথে চলাচলকারী কোটি মানুষের ন্যায্য প্রত্যাশা। তাই জনগুরুত্বপূর্ণ যানজট যুক্ত রাস্তাটিতে অতি দ্রুত মেট্রোরেল নির্মাণ কাজ হাতে নিবেন বলে সরকারের কাছে কোটি মানুষের জোর দাবি।