মুন্সীগঞ্জ, ২৪ জুলাই ২০২৬ (জাসাপ্রে):
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৪টায় উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের সন্তোষপাড়া গ্রামের শ্রীশ্রী গৌর-নিতাই মন্দির থেকে বর্ণাঢ্য উল্টো রথযাত্রার শোভাযাত্রা শুরু হয়ে দানিয়াপাড়ার শ্রীশ্রী মদনমোহন রাধারানী জিউর মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়।
ধর্মীয় সঙ্গীত, হরিনাম সংকীর্তন ও ভক্তিমূলক কীর্তনের মধ্য দিয়ে পুরো এলাকা উৎসবের আমেজে মুখরিত হয়ে ওঠে। বিপুল সংখ্যক ভক্তবৃন্দের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে সপ্তাহব্যাপী শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
সিরাজদিখান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু তপন কুমার দাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বাবু জ্ঞানদীপ ঘোষের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি বাবু দুলাল দাস।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলাউদ্দিন, সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলী, বিশিষ্ট অর্থোপেডিকস চিকিৎসক ও সার্জন অধ্যাপক ডা. দুলাল দত্ত, মুন্সীগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি বাবু সমরেশ নাথ ও বাবু গোবিন্দ দাস পোদ্দার, সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু জয়ন্ত ঘোষ এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক বাবু চন্দ্রনাথ বণিক।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান হাওলাদার, রশুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খিজির চৌধুরী, শেখরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু দেবব্রত সরকার টুটুল, গোপাল সি ঘোষ, প্রবীর কুমার সরকার, ডা. দেবব্রত ঘোষ (সমীর)সহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
শোভাযাত্রা শেষে শ্রীশ্রী মদনমোহন রাধারানী জিউর মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। পরে সন্ধ্যায় আরতি ও বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী মহোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, এ ধরনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন সমাজে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।