ঢাকা, ২৫ জুন ২০২৬ (প্রেক্ষাপট ডটকম):
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সরকারি চাকরিজীবীরা জনগণের টাকায় বেতনভুক্ত সেবক, চাকরিজীবীদের আচরণে অনেকে বিভিন্ন সময় তাদের চাকরও বলে। তাঁদের বক্তব্য, আচরণ ও কর্মপদ্ধতি শুধু ব্যক্তিগত অবস্থান প্রকাশ করে না, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেও প্রতিফলিত করে। তাই চাকুরীজীবি ব্যক্তিদের কথাবার্তায় সংযম, শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকা অত্যন্ত জরুরি। মনে রাখতে হবে জনগণের টাকায় জনগণের সেবা বা চাকরি করতে এসেছেন।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য খাতের এক উপ-পরিচালক সাংবাদিকদের সম্পর্কে করা মন্তব্য জনমনে বিস্ময় ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে বাথরুম পরিষ্কার করা উচিত এধরনের মন্তব্য শুধু অশোভনই নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী গোষ্ঠীকে অবমাননার শামিল।
এমন বক্তব্য একজন সরকারি চাকরিজীবীর কাছ থেকে মোটেও প্রত্যাশিত নয়। এটা এক ধরনের বিকারগ্রস্ত লোকের মন্তব্য হতে পারে। কোন শিক্ষিত সুস্থ স্বাভাবিক লোক এ ধরনের কথা বলতে পারে বলে জানা নেই। এধরণের বিকারগ্রস্ত লোকদের কিভাবে জনপ্রশাসন চাকরি দেয় ও সরকার কিভাবে তাদেরকে চাকরিতে এখনো বহাল রাখে? এধরণের লোকদের দ্রুত চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত কারণ এদের মত চাকরিজীবিদের বেফাঁস মন্তব্যের জন্য রাষ্ট্র ও সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সাংবাদিকতা দেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের চতুর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে, দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরে, জনস্বার্থের বিষয়গুলো সামনে আনে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখে। তাই যেখানে অনিয়ম সাংবাদিক সেই তথ্য তুলে ধরবে এটাই তাদের কর্ম, তাই বলে আপনি অনিয়ম করবেন আর সাংবাদিকগণ তা তুলে ধরলে আপনি তাদের যা খুশি তাই বলবেন এটা অসুস্থ মানসিকতার পরিচায়ক। আপনি অনিয়ম করবেন আপনার অযোগ্যতা ঢাকতে সাংবাদিককে আজে বাজে মন্তব্য করবেন এটা সুস্থ মস্তিষ্কের কাজ নয়।
অন্যদিকে সরকারি চাকরিজীবীরা রাষ্ট্রীয় সেবা প্রদান ও নীতিমালা বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। উভয় পক্ষের লক্ষ্যই জনকল্যাণ নিশ্চিত করা। তাই পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন।
সমালোচনা বা মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু তা প্রকাশের ভাষা হতে হবে ভদ্র, যুক্তিনির্ভর ও পেশাগত। ব্যক্তিগত আক্রমণ, বিদ্রূপ বা অবমাননাকর মন্তব্য কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিশেষ করে উচ্চপদস্থ চাকুরীজীবির বক্তব্য আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত, কারণ তাঁদের কথাবার্তা সমাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। যদিও তিনি ফেসবুক পোস্টে ক্ষমা চেয়েছেন তবুও
আমরা মনে করি, সংশ্লিষ্ট মন্তব্যের বিষয়ে যথাযথ ব্যাখ্যা ও আত্মসমালোচনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও অন্যান্য পেশাজীবীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। রাষ্ট্র ও সমাজের অগ্রগতির জন্য সংঘাত নয়, সহযোগিতা ও সম্মানজনক সংলাপই হতে পারে সর্বোত্তম পথ।
গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, পেশাগত মর্যাদা এবং শালীন ভাষা চর্চার সংস্কৃতিকে সমুন্নত রাখতে হবে। সরকারি চাকরিজীবীদের প্রতিটি বক্তব্যে সেই দায়িত্ববোধের প্রতিফলন ঘটুক— এটাই সাংবাদিক সমাজ তথা আপামর জনগণের প্রত্যাশা।