মুন্সীগঞ্জ, ০২ জুন ২০২৬ (প্রেক্ষাপট ডটকম):
জমি সংক্রান্তের বিরোধের জেরে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে প্রথম আলোর ফিচার ও নকশা বিভাগের প্রধান ফটোগ্রাফার ও পদ্মহেম ধামের সভাপতি কবির হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (০২ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলা লতব্দী ইউনিয়নের দোসর পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহত কবির হোসেন(৪৫) ও তার ভাই তকবির হোসেনকে (৪৩)পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে সিরাজদীখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠিয়ে দেয়।
এ ঘটনায় সাংবাদিক কবির হোসেনের স্ত্রী উম্মে সালমা বাদী হয়ে সিরাজদীখান থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
কবির হোসেন দোসর পাড়া গ্রামের মৃত মালেক মাদবরের পুত্র ও দোসরপাড়া গ্রামের টেকেরহাটে ইছামতি নদীর তীরে পদ্মহেম ধাম লালন সাঁই বটতলার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পদ্মহেম ধাম লালন সাঁই বটতলার জায়গা নিয়ে কবির হোসেন ও তার চাচা মান্নান কোম্পানী গংদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। মঙ্গলবার বিরুধপূর্ণ জায়গায় কবির হোসেন বাউন্ডারি দিতে গেলে তার চাচাতো ভাই ও এলাকাবাসী বাধা প্রদান করে। এ সময় সাংবাদিক কবির হোসেন ও তার ভাই তকবির হোসেন হামলার শিকার হন।
পদ্মহেম ধামের সভাপতি ও প্রথম আলোর ফিচার ও নকশা বিভাগের প্রধান ফটোগ্রাফার কবির হোসেন বলেন, লালন সাঁই আশ্রম (পদ্মহেম ধাম) প্রতিষ্ঠার প্রায় ২১ বছর হয়ে গেছে। এখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আসেন। দীর্ঘদিন ধরে একটি পক্ষ আশ্রমে আসা মানুষদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। বিষয়টি আমি স্থানীয় প্রশাসন এবং সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ-কে জানিয়েছিলাম। এরই ধারাবাহিকতায় আজ তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর, তার ছেলে তৌহিদ, আহাম্মদের ছেলে শাহরিয়ার, যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন, করিমের ছেলে সাহিল ও উৎসব অতর্কিতভাবে তার ও তার ভাই তকবির হোসেনের ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগ অস্বীকার করে আলাউদ্দিন বলেন, ওদের নামে ওখানে কোন জায়গা নেই,লালনের নাম করে জায়গা আত্মসাৎ আর দখলের পায়তারা করছে। ওরা সরকারি ইউএনও,এসিল্যান্ড কাউকেই পাত্তা দেয় না। জোর করে আজ দেওয়াল তৈরি করতে ছিল। এলাকাবাসী বাধা দেওয়ার কারণে হাতাহাতি হয়েছে।
লতব্দী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ আল আমিন হোসেন বলেন,পদ্মাহেম ধামের নামে কোন জায়গা নেই, এটস সরকারি জায়গা, আমি দুবার গিয়ে বাধা দিয়েছি তারা বাধা মানেনি। বিকেলে শুনলাম তাদের আত্মীয়-স্বজনের সাথেই মারামারি হয়েছে।
সিরাজদীখান উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভূমি) সিনথিয়া হোসেন জানান, আমি আমার নায়েব সাহেবকে দিয়ে বিরোধপূর্ণ জায়গায় কাজ করার জন্য মানা করেছিলাম। কিন্তু আজ কাজ করতে গিয়ে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যেই মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে আমি শুনেছি।
সিরাজদীখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম মাদবরকে আটক করেছে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।