ঢাকা, ১৯ আগস্ট ২০২৫ (দৈরাস):
বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে চীন সরকারকে বিনিয়োগের আহবান জানিয়েছেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। একইসাথে তিনি বাংলাদেশের দ্রুত অগ্রসরমান জাহাজ নির্মাণ শিল্পেও বিনিয়োগের আহবান জানান। গতকাল ১৮ আগস্ট সোমবার চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ে (মিনিস্ট্রি অভ ট্রান্সপোর্ট) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে উপদেষ্টা এসকল আহবান জানান।
বৈঠকে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ( বিএসিসি) জন্য চায়না থেকে জিটুজি ভিত্তিতে চারটি জাহাজ ক্রয়ের কার্যক্রম চলমান আছে। এছাড়া উক্ত প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে আরও দুটি জাহাজ ক্রয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চায়না জিং জিয়াং নানায়ং শিপ বিল্ডিং কো: লি. থেকে ক্রয়ের কার্যক্রম ফাস্ট ট্র্যাক ভিত্তিতে চলমান আছে। খুব শীঘ্রই আরও তিনটি জাহাজ ক্রয় করা হবে।
এসময় নৌপরিবহন উপদেষ্টার আহবানের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি জাহাজ নির্মাণ শিল্পেও সহযোগিতার জন্য চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয় আশ্বাস প্রদান করে যা বাংলাদেশের শিপ বিল্ডিং এন্ড ট্রেড সেক্টরের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়াও চীনের বিখ্যাত ইয়েনতাই বন্দর এর সাথে মোংলা বন্দর কতৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগ ও সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করলে পোর্ট ফ্যাসিলিটি বৃদ্ধি পাবে বলে বৈঠকে সহমত পোষণ করা হয়।
বাংলাদেশের নদ-নদীতে পলি জমার পরিমাণ (সিলটেশন রেট) অত্যন্ত বেশি উল্লেখ করে নৌপরিবহন উপদেষ্টা নদী শাসন এর মাধ্যমে সিল্টেশন হ্রাস করার জন্য টেকনোলজি ট্রান্সফারসহ নলেজ শেয়ারিং এর বিষয়ে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন। চায়নার মিনিস্ট্রি অব ট্রান্সপোর্ট থেকে এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করা হয়।
পোর্ট সেক্টরে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সহযোগিতার বিষয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, চীন বন্দর পরিচালনা ও ব্যবস্হাপনায় অত্যন্ত দক্ষ। চীনের বিভিন্ন বন্দর ক্রমবর্ধমান কার্গো এবং কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ক্যাপাসিটি বৃদ্ধির যে দক্ষতা অর্জন করেছে, সেই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের বন্দর গুলো কাজে লাগিয়ে অধিক লাভবান হতে পারবে। এক্ষেত্রে উপদেষ্টা মোংলা বন্দরে বাংলাদেশ-চীন জিটুজি ভিত্তিতে বাস্তবায়নাধীন এক্সপানশন এন্ড মর্ডানাইজেশন অব মোংলা পোর্ট প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য দ্রুত লোন এগ্রিমেন্টের বিষয়ে চায়না এক্সিম ব্যাংকের সাথে যোগাযোগের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় মোংলা পোর্টকে রিজিওনাল হাব ও পোর্ট সেক্টরে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য চীন কতৃক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ চীনের মধ্যে মেরিটাইম সেক্টরের উন্নয়ন ও নলেজ শেয়ারিং এর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। নৌপরিবহন উপদেষ্টা উল্লেখ করেন,
চায়নার মেরিটাইম সেক্টর অত্যন্ত উন্নত ও আধুনিক এবং এক্ষেত্রে গোয়াংজু মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশি সি ফেয়ারদের ট্রেনিং ও নলেজ শেয়ারিং এর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। এ সেক্টরে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির বিষয়ে একমত পোষন করা হয়। এছাড়াও এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে সিল্ক বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এর আওতায় বাংলাদেশকে আরও ক্লোজভাবে কানেক্টিভিটি এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টরে সহযোগিতার বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়।
আগামী (২০২৬-২৭ মেয়াদে) ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) কাউন্সিলের নির্বাচনে ক্যাটাগরি ‘সি’-এর সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষে চীনসহ অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন কামনা করেন। এ বিষয়ে চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার মি. লি ইয়াং সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন এবং চীনের পক্ষেও আসন্ন আইএমও নির্বাচনে ক্যাটাগরি ‘এ’-এর জন্য বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন। তিনি মেরিটাইম সেক্টরসহ বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো ও শিপিং সেক্টরের উন্নয়নে একযোগে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।