।। মোঃ হাবিবুর রহমান ।।
মুন্সিগঞ্জ, ১৭ জুন ২০২৫ (দৈরাস):
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের রাজানগর ইউনিয়নের তেঘরিয়া গ্রামের ৮নং ওয়ার্ড মেম্বার জে আই লিটন চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্থানীয় এক নারী নিজস্ব মালিকানা সম্পত্তির উপর জোর করে ব্যক্তিগত রাস্তা তৈরির অভিযোগ তুলেছেন।
অভিযোগকারী একই গ্রামের প্রবাসী আব্দুর রবের স্ত্রী জাহানারা বেগম।
গত শনিবার (১৪ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার রাজা নগর ইউনিয়নের রাজা নগর মৌজার ৬৫৭নং খতিয়ানের ৫১৮ দাগে ৩৫ শতাংশ ও ২২৫৫নং খতিয়ানে ৫১৯ দাগে ১১৭ শতাংশ জমি রয়েছে জাহানারা বেগমের নামে। এই দুই দাগের জমির উপর দিয়ে জোর করে রাস্তা তৈরি করেন ৮নং ইউপি সদস্য লিটন যার ৭০% জমিই জাহানারা বেগমের।
উক্ত বিষয়ে ভুক্তভোগী জাহানারা ‘দৈনিক রাষ্ট্রীয় সংবাদ’কে জানান, আমি একজন মহিলা মানুষ আমার স্বামী প্রবাসে থাকেন। আমার মেয়ে রয়েছে কিন্তু কোন ছেলে সন্তান না থাকায় সব সময় ভয়ে থাকি। মেম্বার লিটন জোর করে আমার জমির উপর দিয়ে রাস্তা বানিয়েছে, আমাকে একবারের জন্য জিজ্ঞেস করে নাই। মূলত সে তার ও তার নিজস্ব লোকজনের জমির মূল্য বৃদ্ধি করানোর জন্য আমার জমির উপর দিয়ে রাস্তা নিয়ে গেছে এটি কোন সরকারি খাস জমি বা রাস্তা না।
জাহানারা বেগম গণমাধ্যমকর্মীদের আরও জানান, মেম্বার লিটন আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়, লোকজন দিয়ে গুম করে ফেলবে বলেও একাধিকবার হুমকি দিয়েছে। এই বিষয় এলাকার অনেকেই জানে কিন্তু তার ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। তাই আমি অসহায় হয়ে শেখর নগর তদন্ত কেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি এবং সাংবাদিকদের শরণাপন্ন হই। আমি প্রশাসনের কাছে এই বিষয়ে সুস্থ তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে মেম্বার লিটন চৌধুরীর ‘দৈনিক রাষ্ট্রীয় সংবাদ’কে জানান, জাহানারা বেগমের অভিযোগটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে তার জমিতে রাস্তা পড়েছে কিনা আমি জানিনা। তারপরেও আমি উনাকে একাধিকবার বসার জন্য বলেছি। যদি ওনার জমির উপর রাস্তা পড়ে থাকে আমি তার সমাধান করে দেব কিন্তু উনি আমার কথায় কোন কর্ণপাত করেননি। বিষয়টি সম্পর্কে এলাকার অনেকেই অবগত রয়েছেন।
মেম্বার লিটন আরও বলেন, আমি পঁচিশ বছর ধরে জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়ে মেম্বারী করে যাচ্ছি। আমি যদি মানুষের সাথে জোর জুলুম করতাম তাহলে কি মানুষ আমাকে ভোট দিতেন?
শেখর নগর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ তাজুল ইসলাম জানান, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।