1. admin@weeklyprekkhapot.com : admin :
রাজধানীর ওয়ারি জোন’র অধিকাংশ আবাসিক হোটেল নামের আড়ালে মাদক ও দেহ ব্যবসা! - জাতীয় দৈনিক নাগরিক
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লালন সাঁইয়ের মানবতা ও সম্প্রীতির দর্শন ধারণ করে মানবিক সমাজ গড়তে হবে : খাদ্যমন্ত্রী দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে শ্রী শ্রী মা ভবতাঁরা মন্দির পরিদর্শনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর গভীর শোক প্রকাশ বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী রাজার মাঠে শারদীয় দুর্গাপূজা ও শারদ মেলার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন স্কুল পর্যায়ে ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিতে চীনে যাচ্ছেন সিরাজদীখানের তানভীর ও মাহিম এলাকার উন্নয়নে নিরন্তর কাজ করে যেতে চাই : আসাদুল হাবিব দুলু পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইলসহ অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে পরীক্ষার্থীর ১ মাসের কারাদণ্ড শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপহার দিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু খাদ্যের পরিমাণ নয়, গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে : কৃষিমন্ত্রী অপতথ্যের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীগণকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর

রাজধানীর ওয়ারি জোন’র অধিকাংশ আবাসিক হোটেল নামের আড়ালে মাদক ও দেহ ব্যবসা!

জাতীয় দৈনিক নাগরিক ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫
  • ২৭ বার পঠিত
রাজধানীর ওয়ারি জোন’র অধিকাংশ আবাসিক হোটেল নামের আড়ালে মাদক ও দেহ ব্যবসা!

ঢাকা, ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ (দৈরাস):
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায় হলেও এদের নগ্ন হস্তক্ষেপ প্রতিনিয়ত প্রকাশ পাচ্ছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায় নেওয়ার ফলে অনেক অবৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ভোল পাল্টিয়ে যোগ দিচ্ছেন বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য দলে। দৈনিক রাষ্ট্রীয় সংবাদ পত্রিকার অনুসন্ধানে এমনটিই তথ্য মিলেছে। অভিনব পন্থায় রাজধানীর ওয়ারি জোন’র ডেমরা, শ্যামপুর, যাত্রাবাড়ী, গেন্ডারিয়া, কদমতলী এলাকার প্রায় অধিকাংশ আবাসিক হোটেলগুলো যেন এক-একটি মাদকের আখড়া ও যৌনপল্লীতে পরিণত হয়েছে। এতে করে ইসলামী একটি রাষ্ট্রে বেড়ে চলেছে ব্যভিচার ও বেলেল্লাপনা। সুকৌশলে যৌনকর্মীদের হোটেলের আয়া ও বাবুর্চি সাজিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে এসব ব্যবসা।

তথ্য নিয়ে জানা যায়, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসার পাশেই এসকল অবৈধ আবাসিক হোটেলে চলছে অনৈতিক কর্মকান্ড। আবাসিক হোটেল পরিচালনা করার জন্য যে সমস্ত নিয়ম কানুন রয়েছে তার কোনোটিই মানছে না এসকল অবৈধ ব্যবসায়ীরা। অধিকাংশ হোটেল পরিদর্শনে গিয়ে-

# পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র;
# দৈনিক কক্ষ পরিচ্ছন্নতা ও হাউজকিপিং;
# বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন সিঁড়ি;
# প্রতিবন্ধীসহ সর্বজন প্রবেশগম্যতা (বিল্ডিং কোড অনুযায়ী);
# শয়ন কক্ষের ন্যূনতম আয়তন (বাথরুমসহ);
# সিটি ম্যাপ ও সরকারি প্রতিষ্ঠান হইতে সরবরাহকৃত ট্যুরিস্ট গাইড/ব্রোশিয়ার;
# কর্মচারীদের ইউনিফর্ম ও নেমপ্লেট;
# অভিযোগ বক্সের ব্যবস্থা;
# সেবা তালিকা ও সেবামূল্য তালিকা প্রদর্শন;

ব্যবস্থা থাকার নিয়ম থাকলেও তার কোনটিই চোখে পড়েনি।
আবাসিক হোটেল নামধারী কয়েকটি অবৈধ হোটেল মালিকদের সঙ্গে মাদক ও দেহ ব্যবসার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, দেখুন আমাদের এখানে আবাসিক হোটেলের অভাব নেই। আমরা যদি ফ্রেশ ব্যবসা করতে চাই তাহলে আমাদের রাস্তায় গিয়ে ভিক্ষা করে হোটেল চালাতে হবে। তাই আমাদের বাধ্য হয়েই এগুলো করতে হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অবৈধ হোটেলগুলোতে আসা খদ্দেরদের চাহিদা অনুযায়ী আছেন- সিনেমা, টেলিভিশনের মডেল থেকে শুরু করে উঠতি গায়িকা, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী, মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত পরিবারের বিবাহিত-অবিবাহিত তরুণীরা। তবে, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের আনাগোনাই এসকল হোটেলে বেশী দৃশ্যমান। গাঁজা থেকে শুরু করে মানব জীবন ধ্বংসকারী ইয়াবা, আইসসহ বিভিন্ন মাদকের যোগানও রয়েছে।

কিছুদিন পরপর এসকল আবাসিক হোটেলগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালালেও থামছে না এই অনৈতিক ব্যবসা। এসকল আবাসিক হোটেল ব্যবসার আড়ালে মাদক ও দেহ ব্যবসার চিত্র মাঝেমধ্যে গণমাধ্যমে খবরের শিরোনাম হয়। সংবাদ প্রচারের পর পরই অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানের কিছু দিন অতিবাহিত না হতেই কোনো এক অলৌকিক শক্তির সাহায্যে আবারো জমজমাট হয় এই মাদক ও দেহ ব্যবসা।

তবে, অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত নারী ও পুরুষকে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলার মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করা হলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকেন হোটেল পরিচালনাকারী মালিকগণ। এক কথায়, সম্পূর্ণরূপে দায়মুক্ত থাকে হোটেল মালিকগণ।

অভিযোগ রয়েছে, অনৈতিক ব্যবসা পরিচালনাকারী এ সকল হোটেল মাসিক মাশোয়ারার মাধ্যমে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসকল বিষয়ে কঠোর থাকলেও অর্থের বিনিময়ে হার মানে বলে অভিযোগ রয়েছে। আর এতে করে প্রশাসনের মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। এসকল সিন্ডিকেটদের আইনের আওতায় এনে সমাজের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে পুলিশ এমনটাই মনে করেন এলাকার স্থানীয় সচেতন নাগরিকগণ।

খদ্দেরদের যোগান দিতে হোটেল মালিকদের রয়েছে একাধিক দালাল সিন্ডিকেট। এরা বিভিন্ন সোস্যাল মাধ্যমে পতিতাদের ছবি সম্বলিত চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে খদ্দের যোগান দেন। বিভিন্ন বয়সের উঠতি মডেল ও গ্রামের অসহায় সুন্দরী নারীদের বিউটি পার্লারে চাকরি দেওয়ার নাম করে তাদের আখড়ায় নিয়ে এসে জোড়াপূর্বক গণিকাবৃত্তিতে বাধ্য করার অভিযোগ অহরহ।

এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ‘দৈনিক রাষ্ট্রীয় সংবাদ’কে জানান, আমরা আমাদের কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের নিয়ে শঙ্কায় আছি। দেশ এগুচ্ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছেলে-মেয়েদের হাতে আমাদের তুলে দিতে হচ্ছে মুঠোফোন। আর আমাদের এই এলাকার এমনই অবস্থা যে, মোবাইলে সোস্যাল মাধ্যম ওপেন করলেই বিভিন্ন কুরুচিসম্পন্ন বিজ্ঞাপন আমাদের সামনে চলে আসে। এগুলোতে বিভিন্ন মেয়েদের অর্ধনগ্ন ছবির সাথে যোগাযোগের নাম্বার ও ঠিকানাও দেওয়া থাকে। এতে করে আমরা আমাদের ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যত নিয়ে বেশ চিন্তিত রয়েছি। ছেলে-মেয়েরা যদি এসব পথে পা বাড়ায়?

রাষ্ট্রের অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরশাসক সরকারের রেখে যাওয়া নেতা-কর্মীরাই বিভিন্নভাবে সমাজে অপরাধের বিস্তার ঘটাচ্ছে। আর এসকল অবৈধ আবাসিক হোটেল নামের আড়ালে গোপন কক্ষে যে ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ হয় তা সমাজে অপরাধ প্রবণতাকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনিরাপদ মেলামেশার ফলে সমাজে এইডসের প্রকোপ বেড়ে চলেছে। অবশ্যই এদের বিরুদ্ধে স্বাধীন বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর হস্পক্ষেপ প্রয়োজন।

অবৈধ আবাসিক হোটেলগুলোর কর্মকান্ড নিয়ে বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন দৈনিক রাষ্ট্রীয় সংবাদ পত্রিকার পরবর্তী প্রতিবেদনে।

(ধারাবাহিক প্রতিবেদন-১)

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর
  • উপমা মুদ্রন, ৭৮/১ ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
  • সর্বসত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ জাতীয় দৈনিক নাগরিক
  • অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের যেকোন লেখা, ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনী।
Theme Customized BY Shakil IT Park