ঢাকা, ২৫ নভেম্বর ২০২৪ (দৈরাস):
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায় হলেও এদের নগ্ন হস্তক্ষেপ প্রতিনিয়ত প্রকাশ পাচ্ছে। দৈনিক রাষ্ট্রীয় সংবাদ পত্রিকার অনুসন্ধানে এমনটিই তথ্য মিলেছে খোদ রাজধানীর বনানীতে। ফ্যাসিস্ট সরকারের রাজনৈতিককর্মী ও সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে অবৈধ স্পা সেন্টারে দেহ ও মাদকের রমরমা বাণিজ্য আবু সাঈদ ওরফে শহিদ নামক ব্যক্তি “আঙুল ফুলে কলাগাছ”।
সূত্রে জানা যায়, পূর্বে রাজধানীর মিরপুরের একাধিক অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত আবাসিক হোটেলগুলোতে কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি বনানী কবরস্থানের বিপরিতে ২৭নং রোডের ৩৭নং বাড়িটির (৫ম তলায়) বিউটি পার্লার ও সেলুনের ট্রেডলাইসেন্সে আড়ালে স্পা সেন্টার (যেখানে পুরুষ দিয়ে পুরুষের এবং নারী দিয়ে নারীদের) ম্যাসাজ করার নিয়ম থাকলেও তিনি এটিকে বানিয়েছেন গণিকাবৃত্তির আতুরঘর। আর এখানে আসা খদ্দেরদের চাহিদা মাফিক বিভিন্ন মরণব্যাধি সৃষ্টিকারী মাদকের যোগানও দিয়ে থাকেন উক্ত শহিদ। গাঁজা থেকে শুরু করে ইয়াবা, মদসহ বিভিন্ন মাদক রয়েছে শহিদের এই আখড়ায়। খদ্দের নিজে খেলে একটু কম রেট আর যদি পতিতা নারীদের দিয়ে খাওয়ানো হয় তাহলেই তার রেট হয়ে যায় দ্বিগুন। অনেক খদ্দেরদের এভাবে নেশা করিয়ে পতিতাদের দিয়ে দৈহিক সম্পর্ক জড়িত হলেই শহিদ খদ্দেরদের ব্ল্যাকমেইল করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

উক্ত আবু সাঈদ ওরফে শহিদ’র অপকর্ম নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পরও বহালতবীয়তে রয়েছেন তিনি। এতে করে বনানী থানাধীন এলাকায় অপৃতিকর ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করছেন বানানীতে বসবাসকারী বাসিন্দারা।
শহিদের অবৈধ এই প্রতিষ্ঠানের বিল্ডিংটির মালিক বর্তমানে বিএনপি’র একজন প্রভাবশালীকর্মী হলেও অতিরিক্ত ভাড়া পাওয়ায় ফ্যাসিস্ট সরকারের এই কর্মীকে এখনো বহালতবীয়তে রেখেছেন তিনি। ভবনটির (৫ম তলা) তে বিউটি পার্লার ও সেলুনের কার্যক্রম চললেও মাদক ও নারীদের সঙ্গে অবৈধ দৈহিক সম্পর্কের দরদাম নিশ্চিত হলেই খদ্দেরদের নিয়ে যাওয়া হয় উপরের ফ্লোরে।
খদ্দেরদের যোগান দিতে শহিদের রয়েছে একাধিক দালাল সিন্ডিকেট। এরা বিভিন্ন সোস্যাল মাধ্যমে পতিতাদের ছবি সম্বলিত চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে খদ্দের যোগান দেন। অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন বয়সের উঠতি মডেল ও গ্রামে অসহায় সুন্দরী নারীদের বিউটি পার্লারে চাকরি দেওয়ার নাম করে তাদের আখড়ায় নিয়ে এসে জোড়াপূর্বক গণিকাবৃত্তিতে বাধ্য করেন। এছাড়াও পূর্বে মিরপুরের হোটেল ব্যবসায়িদের সঙ্গে শহিদের ভালো সম্পর্ক থাকায় বর্তমানে হোটেলগুলোতে খদ্দের ও পতিতাদের সাপ্লাই দিয়ে থাকেন তিনি।
উক্ত অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা জানতে চাইলে আবু সাঈদ ওরফে শহিদ’র ব্যবহৃত মুঠোফোনের ০১৯৯৯-৯০৫৫৯০ তে কল করে জানতে চাইলে ‘দৈনিক রাষ্ট্রীয় সংবাদ’কে শহিদ জানান, ভাই আমিও আপনাদেরই ভাই। আমি দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার। আপনি চাইলে আমার পত্রিকার সম্পাদকের সাথে কথা বলতে পারেন। আপনারা সাংবাদিক আপনারা তো সবই বোঝেন। এক সময় আমাদের অফিসে আসবেন, ভাইয়ের অফিসে এককাপ কফি খেয়ে যাবেন।
তিনি আরও বলেন, ভাই আগে আওয়ামীলীগ করতাম এখন আস্তে আস্তে বিএনপিতে যোগ দিচ্ছি। তাছাড়া কিছু লোক এসে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র পরিচয় দিয়ে কয়েক দিন পর পর ঝামেলা করে।
শহিদ’র বক্তব্যের সত্যতা জানতে, ‘দৈনিক রাষ্ট্রীয় সংবাদ’ যোগাযোগ করে দৈনিক ‘মাতৃজগত’ পত্রিকার সম্পাদক খান সেলিম রহমান’র সঙ্গে।
তিনি বলেন, ও একটা প্রতারক। আমার নাম বিক্রি করে খায়। আপনার মতো আমাকে এর আগেও ওর ব্যপারে অনেকে কল করেছে। আমি ওর বিরুদ্ধে মামলা করবো। আমার সঙ্গে ওর পরিচয় আরও তিন চার বছর আগে হয়েছিলো তখন ও আমার চ্যানেলের কয়েকটি নাটক ও মডেলিংয়ে অভিনয় করে ছিলো। সে আমার কোনো প্রতিনিধি না।
এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ‘দৈনিক রাষ্ট্রীয় সংবাদ’কে জানান, আমরা আমাদের কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের নিয়ে শঙ্কায় আছি। দেশ এগুচ্ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছেলে-মেয়েদের হাতে আমাদের তুলে দিতে হচ্ছে মুঠোফোন। আর আমাদের এই বনানী জোনের বর্তমানে এমনই অবস্থা যে, মোবাইলে সোস্যাল মাধ্যম ওপেন করলেই বিভিন্ন কুরুচিসম্পন্ন বিজ্ঞাপন আমাদের সামনে চলে আসে। এগুলোতে স্পা মেসেজের সাথে যোগাযোগের নাম্বার ও ঠিকানাও দেওয়া থাকে। এতে করে আমরা আমাদের ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যত নিয়ে বেশ চিন্তিত রয়েছি। ছেলে-মেয়েরা না এসব পথে পা বাড়ায়।
তিনি এও বলেন, এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হবে। প্রতিটি ভবনে তল্লাশি চালিয়ে এদের ব্যবসাগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। তা না হলে এসমাজ নষ্ট হয়ে যাবে।
রাষ্ট্রের অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরশাসক সরকারের রেখে যাওয়া নেতা-কর্মীরাই বিভিন্নভাবে সমাজে অপরাধের বিস্তার ঘটাচ্ছে। আর এসকল অবৈধ স্পা সেন্টারের গোপন কক্ষে যেধরনের কার্যকলাপ হয় তা সমাজে অপরাধ প্রবণতাকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। অবশ্যই এদের বিরুদ্ধে স্বাধীন বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্পক্ষেপ প্রয়োজন।
চলবে…