।। টি,এম শরিফ উদ্দিন ।।
সিরাজগঞ্জ, ০২ নভেম্বর ২০২৪ (দৈরাস):
গত ৫ আগষ্টের পর থেকে স্থবির হয়ে পরেছে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানার পুলিশি কার্যক্রম। যার কারণে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরির ঘটনা।
অপরদিকে মাদকে সয়লাব পুরো উপজেলা।
পুলিশের এমন স্থবিরতা নিয়ে জনমনে চলছে নানা প্রশ্ন। কোন পথে হাটছে পুলিশ? কেন তাদের এ নিরবতা? জনগনের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যার্থ হচ্ছে বেলকুচি থানা পুলিশ।
এলাকাবাসীরা বলছেন, পুলিশকে বেগবান করতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নির্দেশনা থাকলেও তার কোন কার্যক্রম নেই এই থানায়।
বেলকুচি থানা পুলিশে অভিযোগ করে মাইক্রো বাস মালিক নূরুল ইসলাম বলেন, আমি গত ০৮ অক্টোবর রাতে ঢাকা থেকে আসার পথে সয়দাবাদ-এনায়েতপুর মহা-সড়কের সমেশপুর স-মিলের সামনে কয়েকটি গাছের গুড়ি ফেলে গতিরোধ করে ডাকাত দল। আমি এমনটা দেখে পাশের ছোট রাস্তায় গাড়ী ঘুরিয়ে দেই। পরে থানায় ফোন করি কিন্তু পুলিশের সারা পাইনা। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে রাস্তার উপরের কাঠের গুড়ি গুলো সরিয়ে দেয়। তার পরে আমি পার হয়ে আসি।
এবিষয়ে বেলকুচি উপজেলার মাইক্রোবাস চালক রনি বলেন, আমি ১৩ অক্টোবর রাতে ঢাকা থেকে আসার সময় সমেশপুর স-মিলের সামনে গাছের গুড়ি ফেলে ডাকাতি করার চেষ্টা করে ডাকাত দল। আমি চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে আসে তখন ডাকাতদের দল দৌড়ে চলে যায়। তরপর পুলিশকে ফোন করি কিন্তু গভীর রাতের কারনে পুলিশ আসতে অপারগতা প্রকাশ করে। এরপরের দিন সিয়াম ড্রাইভারের গাড়ী ডাকাত দল আক্রমণ করার সময় পেছন দিকে একটি ট্রাক এসে থামে আর ঐ ট্রাকের কারনে ডাকাতির হাত থেকে রক্ষা পায় সিয়ামের গাড়ীটি।
উক্ত বিষয়ে বেলকুচির চালা গ্রামের মামুন হাসান বলেন, আমাদের বাড়ীর সামনে মাদক সম্রাট আলীর বাড়ী। এই বাড়ীতে দিন রাত ২৪ ঘন্টা মাদক বিক্রি হয়। আগে মাঝে মাঝে পুলিশের অভিযান থাকলেও ৫ আগষ্টের পর থেকে পুলিশের কোন তৎপরতা নেই। পুলিশের এমন নিরাবতার কারনে বেলকুচী থানার প্রায় প্রতিটি এলাকার মানুষ আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। পুলিশ কেন তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিলো তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মাদকের সহজলভ্যতার বিষয়ে কৌশলে শেরনগর গ্রামের মাদক সেবী আশরাফ আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন নেশা করতে আর কিনতে আগের মতো ভয়ে থাকতে হয় না। দেশের পুলিশ এখন আমাদের ভয় পায়।
উক্ত বিষয়ে বেলকুচি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকারিয়া হোসেন বলেন, আমার থানায় দুটি ডাকাতির খবর পাওয়ার পরে আমি সঙ্গে সঙ্গে ফোর্স পাঠিয়ে দিয়ে নিয়ন্ত্রন করেছি। আর মাদকের ব্যাপারে প্রতিনিয়ত আমাদের অভিযান চলছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক মামলায় সবাই জামিনে আছে তাই কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছেনা।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রাফিউর রহমান বলেন, ডাকাতির বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এখন থেকে তিনি নিজেই বিষয়টি কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন বলে ‘দৈনিক রাষ্ট্রীয় সংবাদ’কে আশ্বস্ত করেছেন।