উত্তরা (ঢাকা), ২৫ অক্টোবর ২০২৪ (দৈরাস):
রাজধানীর উত্তরায় ছাত্র সমন্বয়ক পরিচয়ে বেইজিং হোটেলে চাঁদাবাজি করার সময় দুই নারীসহ নয়জনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টবর) উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের বেইজিং হোটেলে চাঁদাবাজি করা সময় তাদের আটক করা হয়।
বেইজিং হোটেলে ঢুকে হোটেলের মালিককে একটি রুমে আটকে রাখা হয়। সেই সঙ্গে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর গ্রেপ্তার হওয়া নয়জনসহ আরও কয়েকজন পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ওই সময় হোটেলটির মালিককে কথিত সমন্বয়কেরা ৫ লাখ টাকার জন্য ১০ মিনিট সময় বেঁধে দেন। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ কৌশলে প্রশাসনকে জানালে সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে নয়জনকে গ্রেপ্তার করে।
হোটেলটির মালিক হাসিব আহসান খান বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা করেন। তিনি দৈনিক রাষ্ট্রীয় সংবাদ’কে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয়ে ২০-২২ জন যুবক ও যুবতী হোটেলে প্রবেশ করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে হোটেলটিতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলে—এমন অভিযোগ তুলে ভাঙচুর করা হবে বলেও তারা হুমকি দেয়। তারা হোটেলে তল্লাশি চালায়। পরে ক্যাশে থাকা এক লাখ টাকা নিয়ে নেয়। বাকি চার লাখ টাকার জন্য জোরাজুরির একপর্যায়ে প্রশাসন এসে তাদের চাঁদাবাজির টাকাসহ গ্রেপ্তার করে।’
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান।
আটককৃতরা হলেন- সিনথিয়া কবির (২৫), খান মোহাম্মদ ওয়ালিদ (২৭), কাজী জুবায়েল (২২), রাইয়ান কবির অয়ন (২১), ইরফান পায়েল (১৯), বিভাষ বড়াল (২৮), সুবর্ণা (২০), মনিরুল ইসলাম (৩০), মো. নিহাদ (২৪), শিহাব।
পুলিশ জানায়, একদল দুষ্কৃতিকারী ছাত্র সমন্বয়কের পরিচয়ে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ৭ নম্বর সড়কে অবস্থিত বেইজিং হোটেলে প্রবেশ করে। পুলিশের অনুমতি ছাড়াই তারা অবৈধভাবে হোটেলে তল্লাশি চালায়।
এসময় তারা হোটেলে অনৈতিক কাজ হয় বলে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। তারা হোটেলের রিসিভশনের ক্যাশ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদাবাজি করে।
পুলিশ আরও জানায়, যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে কয়েকজন চাঁদাবাজ পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এসময় দুষ্কৃতিকারীদের হাতেনাতে ধরে ফেলে যৌথ বাহিনী। তাদের কাছ থেকে নগদ চাঁদাবাজির ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয় এবং বাকি টাকা পলাতক আসামিদের কাছে রয়েছে বলে জানা যায়।
আসামিদের উত্তরা পশ্চিম থানায় পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় চাঁদাবিজির একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে যৌথ বাহিনী।