ঢাকা, ২১ অক্টোবর ২০২৪ (দৈরাস):
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায় হলেও এদের নগ্ন হস্তক্ষেপ প্রতিনিয়ত প্রকাশ পাচ্ছে। দৈনিক রাষ্ট্রীয় সংবাদ পত্রিকার অনুসন্ধানে এমনটিই তথ্য মিলেছে খোদ রাজধানীর গুলশান এলাকায়। রাজনীতি ও সাংবাদিকতার মুখোশের আড়ালে অবৈধ স্পা সেন্টারে দেহ ব্যবসার সেল্টার দাতা দালাল আবু জাফর।
সূত্রে জানা যায়, নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গড়মাটি গ্রামের মো: ওয়াজেদ আলীর ছেলে আবু জাফর। তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের একটি অঙ্গ সংগঠনের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বনে যান সাংবাদিক। মূলত সাংবাদিকতা পেশাকে পূজি করে আবু জাফর গুলশান-বনানীর বিভিন্ন অবৈধ স্পা নামক পতিতালয় ও থানা ম্যানেজের দায়িত্ব পালন করেন বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, আবু জাফর গুলশান-বনানীর একাধিক স্পা সেন্টারের মালিক পক্ষদের কাছে গিয়ে তাদের বলেন, আমাকে দায়িত্বদেন থানা-পুলিশ ও আপনাদের কাছে এলাকার নেতা থেকে শুরু করে যারা চাঁদাদাবী করে তাদের খরচ অর্ধেকে নামিয়ে দিবো। থানা-পুলিশের সঙ্গে সঙ্খতা করতে গিয়ে আবু জাফর বিভিন্ন সময় পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাগণদের উপঢৌকনও দিতেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ আগস্ট ২০২৪ দৈনিক রাষ্ট্রীয় সংবাদ পত্রিকায় ‘রাজধানীর গুলশান-বনানীতে অবৈধ স্পা সেন্টার ও মাদক বাণিজ্য! ছাত্র-জনতা ও সেনাবাহিনীর হস্পক্ষেপ কামনা স্থানীয় বাসিন্দাদের!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে উক্ত আবু জাফর প্রতিবেদককে নিউজ বন্ধ করার জন্য বিভিন্নভাবে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
বর্তমানে গুলশান-১ এর রোড নং-১৩০, বাড়ী নং-২৮ (লেকফ্রন্ট মাইনুল ভিলা) এ স্পা সেন্টার নামের আড়ালে দেহ ও মাদকের রমরমা বাণিজ্য পরিচালনাকারী আয়েশা সিদ্দিকা লাবণী ওরফে (ইভা) নামক দেহ ব্যবসায়ী ও মাদকের সম্রাজ্ঞী যার মোবাইল নাম্বার-(০১৮১২-১২৮৮৮১) এই নারীর সেল্টার দাতা হিসেবে রয়েছেন উক্ত আবু জাফর যার মোবাইল নাম্বার-(০১৭১১-১১৮৯৬৭।
তবে সূত্রের খবর আবু জাফর বিগত ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরশাসক সরকারের দলীয় কর্মী হওয়ায় বর্তমানে তিনি ইভার স্পা সেন্টারের ভিতরে প্রবেশ করেন না। বরং স্পা সেন্টারের নিচ থেকেই তার কার্য সম্পাদন করে চলে যান।
উল্লেখ্য, দেহ ব্যবসায়ী ও মাদকের সম্রাজ্ঞী ইভার বিরুদ্ধে বনানী থানাতে একাধিক মামলায় জর্জরিত হয়ে দেহ ব্যবসায়ী ও মাদকের সম্রাজ্ঞী ইভা গুলশানে ছুটে আসেন ব্যবসা করতে। এখানেও কিছু দিন পর পর আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর অভিযানের কারণে তার অবৈধ দেহ ও মাদক ব্যবসার স্থান পরিবর্তন করে চলেছেন।
এছাড়াও গুলশান-১ এর একই ভবনের নিচ তলায় রয়েছে রবি নামের এক দেহ ব্যবসায়ীর স্পা সেন্টার। যেখানে পাপ্পু, আলামিন সরদার, মেঘলা নামের একাধিক নারীপাচারকারী সদস্যরা রয়েছেন।
সূত্রে জানা যায়, লেকফ্রন্ট মাইনুল ভিলার ভবন মালিক অতিরিক্ত ভাড়া পাওয়ার লোভে এধরনের স্পা সেন্টারগুলোকে ভাড়া দিয়ে থাকেন।
রাষ্ট্রের অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরশাসক সরকারের রেখে যাওয়া নেতা-কর্মীরাই বিভিন্নভাবে সমাজে অপরাধের বিস্তার ঘটাচ্ছে। আর এসকল অবৈধ স্পা সেন্টারের গোপন কক্ষে যেধরনের কার্যকলাপ হয় তা সমাজে অপরাধ প্রবণতাকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। অবশ্যই এদের বিরুদ্ধে স্বাধীন বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্পক্ষেপ প্রয়োজন।
চলবে…