॥ ফরহাদ হোসেন ॥
ঢাকা, ৩১ আগস্ট, ২০২৪ (দৈজাস):
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) এর ২৫টি ক্যাডার নিয়ে গঠিত ‘আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ’ শনিবার (৩১ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে যাত্র শুরু করেই এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরিষদ বৈষম্যহীন, জনবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক সিভিল সার্ভিস গঠনে এক গুচ্ছ দাবি ও সুপারিশ পেশ করে।
‘আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ’ এর উল্লেখযোগ্য দাবি ও সুপারিশসমূহ হচ্ছে- উপসচিব ও তদূর্ধ্ব পদে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে উন্মুক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে উপসচিব পদে নিয়োগ প্রদান, কৃত্য পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় গঠন তথা ‘ক্যাডার যার মন্ত্রণালয় তার’ এর বাস্তবায়ন, প্রশাসন ক্যাডার ও অন্যান্য ক্যাডারের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূরীভূত করে সকল ক্যাডারের মধ্যে সমতা আনয়ন, পদ সৃজন, স্কেল আপগ্রেডেশন ইত্যাদির মাধ্যমে পদোন্নতিতে সমান সুযোগ প্রদান, ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স এর পুনর্বিন্যাস বা সংশোধন, বিভিন্ন ক্যাডারের তফসিলভুক্ত পদ থেকে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার, ইত্যাদি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রের কর্মবিভাগের নিউক্লিয়াস হলো এর ক্যাডার সার্ভিসসমূহ। তার উপরে রয়েছে সরকারের সুপিরিয়র সার্ভিস যা উপসচিব হতে সিনিয়র সচিব পর্যন্ত বিন্যস্ত। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য উপযোগী কর্মবিভাগ নির্মাণের জন্য একটি কমিশন (পে অ্যান্ড সার্ভিসেস কমিশন) গঠন করা হয়। এরপর সংসদে Services (Reorganisation and Conditions) Act, 1975 প্রণয়ন করে কর্মবিভাগ তৈরির জন্য সরকারকে ক্ষমতা দেয়া হয়। এই আইনের অধীন ১৯৭৯ সালের ১ মার্চ সিনিয়র সার্ভিসেস পুল (এসএসপি) আদেশ জারি করা হয়। প্রজাতন্ত্রের কর্মবিভাগকে প্রতিনিধিত্বমূলক এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এর গুণগত বিকাশের জন্য এই আদেশ ছিল একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।
আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯৮৯ সালে এসএসপি বাতিল আদেশে (এসআরও ২৬১, ১৭ জুলাই ) উপসচিব ও যুগ্মসচিব পদে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের পরিবর্তে বিভিন্ন ক্যাডারের জন্য প্রহসনমূলক কোটা পদ্ধতি চালু করা হয়। ১৯৯৮ সালের ১০ ফ্রেব্রুয়ারি একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে (১১ ফেব্রুয়ারি গেজেট নোটিফিকেশন জারি হয়) উপসচিবের পদে প্রশাসন ক্যাডারের জন্য ৭৫% কোটা রেখে অন্যান্য ক্যাডারের জন্য ২৫% কোটা বরাদ্দ রাখা হয়।