ঢাকা, ৩১ আগস্ট, ২০২৪ (দৈজাস):
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা, ঢাকায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস আহুত রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে সংলাপে খেলাফত মজলিসের একটি প্রতিনিধি দল শনিবার (৩১ আগস্ট) বিকাল ৩টায় অংশগ্রহণ করে।
উক্ত প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী ও অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম। সংলাপে উপস্থাপন করা হয় বেশ কিছু প্রত্যাশা ও সংস্কার প্রস্তাবনা।
রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আশু সংস্কার বিষয়ে খেলাফত মজলিসের প্রস্তাবনা-
১. সরকার ব্যবস্থায় সংস্কার: দেশের বর্তমান ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীকে যে ব্যাপক ক্ষমতা ও স্বেচ্ছাচারী হওয়ার প্রভূত সুযোগ দেয়া হয়েছে তা দূরীকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য বিধান করতে হবে। একই সাথে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি কেউই যেন একাধিক্রমে দুই মেয়াদের বেশী স্বপদে থাকতে না পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। কোন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন না।
৩. স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সংষ্কার: স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তাকে স্থানীয় উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিভাগ স্থানীয় সরকারের অধীনে দিতে হবে। সংসদ সদস্যগণ যাতে দেশের আইন ও নীতি প্রণয়নের কাজে ব্যস্ত থাকেন ও স্থানীয় সরকারের কাজে কোনরূপ হস্তক্ষেপ না করেন তার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
৪. প্রশাসনিক সংষ্কার: সীমাহীন দলীয়করণের মাধ্যমে প্রশাসনের সর্বস্তরে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার যে প্রচণ্ড ক্ষতের সৃষ্টি করে গেছে তা দ্রæত দূর করার জন্য প্রশাসনিক সংষ্কার কমিশন গঠন করে জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন-সহ সর্বত্র সুষ্ঠু নিয়মনীতি প্রতিষ্ঠা ও শৃঙ্খলা বিধান নিশ্চিত করতে হবে যাতে প্রশাসন ক্ষমতাসীন দলের লেজুড়বৃত্তির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।
৫. অর্থ ও ব্যাংক ব্যবস্থা সংস্কার: দুর্নীতিবাজ মাফিয়া হাসিনা সরকার দেশের সামগ্রীক অর্থনীতি ও ব্যাংক ব্যবস্থায় যে সীমাহীন দুর্নীতি, বিশৃঙ্খলা ও দূরাবস্থা সৃষ্টি করেছে দ্রুত আর্থিক সংস্কার কমিশন গঠন করে তা উত্তরণে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও ইতিবাচক ও আস্থার পবিবেশ দ্রুত ফিরিয়ে আনতে হবে। দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রণয়নে গঠিত জাতীয় কমিটি যাতে দ্রুত তা প্রণয়ন ও প্রকাশ করে তার ব্যবস্থা করতে হবে। দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।
৭. আইনী সংস্কার: ব্যাপকভাবে সমালোচিত বিশেষ ক্ষমতা আইন বাতিল, আইসিটি ও ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট সংশোধন এবং অনাস্থা প্রস্তাব ও বাজেট প্রস্তাব পাশের ক্ষেত্র ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রয়োগের ধারা বাতিল করতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত করার জন্য ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার প্রবর্তিত বিচারপতি অভিশংসন আইন বাতিল করতে হবে। বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে প্রতিটি প্রশাসনিক বিভাগে হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন করতে হবে।