মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লায় ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে বাড়ছে নির্বাচনী সংঘাত ও অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ। এসব ঘটনায় আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে হচ্ছে জরিমানা ও শোকজ।
রিটার্নিং কর্মকর্তা বলছেন, নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে আরো কঠোর হবে প্রশাসন। গত পাঁচ দিনে কুমিল্লা-০৭ চান্দিনা আসনে নৌকার প্রার্থী ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত এমপি’র সমর্থক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল মার্কার উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ টিটুর সমর্থকদের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষে জেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। গাড়ি ও প্রচারণার মাইক ভাঙচুর করা হয়েছে। সর্বশেষ আহত হয়েছেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম মুন্সী, পৌর আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক আবুল খায়ের, যুবলীগ নেতা মো: মহিউদ্দিন। এসব ঘটনায় চান্দিনা থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে অন্তত চারটি।
তবে হামলার জন্য নৌকা প্রতীকের সমর্থকদেরকে দায়ী করেছেন স্বতন্ত্রপ্রার্থী মুনতাকিম আশরাফ টিটু।
তিনি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তার প্রতীক ঈগলের পক্ষে আর প্রচার-প্রচারণা করা হবে না।
এ প্রসঙ্গে নৌকার প্রার্থী ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, এসব মিথ্যা ও বানোয়াট ঘটনা। বরং তার কর্মীদেরকে বিভিন্ন জায়গায় মারধর ও হেনস্তা করা হচ্ছে। নির্বাচন বানচালের জন্য একটি পক্ষ সক্রিয়ভাবে এসব ঘটনা নিজেরাই ঘটাচ্ছে।
এদিকে ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে নির্বাচনী আচরনবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা ও শোকজ। কালো টাকার ছড়াছড়ি এবং পেশিশক্তি ব্যবহারের অভিযোগ করছেন বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা। আচরণবিধি লঙ্ঘন বেশি হচ্ছে কুমিল্লা-০১ দাউদকান্দি-তিতাস আসনে, কুমিল্লা-৫ বুড়িচং- ব্রাহ্মপাড়া, কুমিল্লা-৬ সদর।
কুমিল্লা ৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুলকপি মার্কার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অনেক কর্মী সমর্থক অতি উৎসাহী হয়ে আচরণবিধি লংঘন করছে, তবে সকলেরই আচরণবিধি মেনে চলা উচিত।
একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ জাহের বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে জরিমানা শোকজ করা হচ্ছে। নির্বাচনি পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে প্রশাসন কঠোর আছে, কিন্তু আমাদের আসনে বিভিন্ন এলাকায় এখনো প্রার্থীরা আচরণবিধি লংঘন করছে।
এদিক ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রার্থীদেরকেই সচেতন হতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
টিআইবি কেন্দ্রীয় পর্ষদ সদস্য বদরুল হুদা বলেন, যারা জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তারা হবেন আইন প্রণেতা। তারাই যদি আইন ভঙ্গ করে তাহলে সাধারণ মানুষ কি করবে! এদিকে কুমিল্লায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে গত ১৫ দিনে অর্ধশতাধিক প্রার্থী ও সমর্থকদের কাছ থেকে মোবাইল কোর্টে তিন লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
অনুসন্ধান কমিটিতে শোকজ করা হয়েছে বর্তমান এমপি, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী, হেভিওয়েবট স্বতন্ত্র প্রার্থী, জনপ্রতিনিধি সহ অন্তত ৮ জনকে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান জানান, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনে আরো কঠোর হবে প্রশাসন। কুমিল্লার ১১টি আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ৯১ জন। জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪৬ লাখ ৬ হাজার ২০৯ জন।