1. admin@weeklyprekkhapot.com : admin :
ঝিনাইগাতীর মহারশি নদী এখন মরণ ফাঁদ! - জাতীয় দৈনিক নাগরিক
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লালন সাঁইয়ের মানবতা ও সম্প্রীতির দর্শন ধারণ করে মানবিক সমাজ গড়তে হবে : খাদ্যমন্ত্রী দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে শ্রী শ্রী মা ভবতাঁরা মন্দির পরিদর্শনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর গভীর শোক প্রকাশ বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী রাজার মাঠে শারদীয় দুর্গাপূজা ও শারদ মেলার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন স্কুল পর্যায়ে ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিতে চীনে যাচ্ছেন সিরাজদীখানের তানভীর ও মাহিম এলাকার উন্নয়নে নিরন্তর কাজ করে যেতে চাই : আসাদুল হাবিব দুলু পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইলসহ অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে পরীক্ষার্থীর ১ মাসের কারাদণ্ড শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপহার দিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু খাদ্যের পরিমাণ নয়, গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে : কৃষিমন্ত্রী অপতথ্যের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীগণকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর

ঝিনাইগাতীর মহারশি নদী এখন মরণ ফাঁদ!

শেরপুর, ৪ জুলাই, ২০২৪ (দৈরাস):
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই, ২০২৪
  • ১২৮ বার পঠিত
ঝিনাইগাতীর মহারশি নদী এখন মরণ ফাঁদ!

শেরপুর, ৪ জুলাই, ২০২৪ (দৈরাস):
স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও শেরপুরের ঝিনাইগাতীর মহারশি নদীতে শহর রক্ষার বাঁধ নির্মাণ না করায় এই নদী এখন জনগণের কাছে আর্শিবাদ না হয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। একদিকে নদীটি খনন না করায় হারিয়েছে তার নাব্যতা। অপরদিকে নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে অবৈধভাবে বসতবাড়ী নির্মাণ করায় খরস্রোতা নদীটি একটি খালে পরিণত হয়েছে। যে কারণে প্রতিবছর বর্ষার মৌসুমে অবিরাম বর্ষণ আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানি প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি হয়। এতে উপজেলা শহরের আশেপাশে বেশ কয়েকটি জায়গায় ভেঙ্গে গিয়ে ঢলের পানি উপজেলা সদর বাজার, অফিস-আদালত সহ বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।

জানা গেছে, ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা ঝিনাইগাতীর বুক চিরে বয়ে গেছে মহারশি নদী। কালের বির্বতনে খরস্রোতা নদীটি খনন না করায় হারিয়েছে তার নাব্যতা। অপরদিকে নদীর পাশে জেগে ওঠা চরে অবৈধভাবে বসতবাড়ী নির্মাণ করায় দিনে দিনে নদীটি খালে পরিণত হয়েছে। এতে বর্ষার মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি হয়। যে কারণে দু’পাড়ের কাঁচা বাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের সদর বাজারসহ হাজার হাজার একর ফসলী জমিতে পানি প্রবেশ করে ক্ষয়-ক্ষতি হয় রাস্তা ঘাটের।

শুধু তাই নয়, বেড়িবাঁধ না থাকায় হুমকির মুখে রয়েছে কয়েকটি গ্রাম সহ দিঘীরপাড় ফাযিল মাদরাসা। যে কোন সময় নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে রামেরকুড়া পুর্বপাড়া ও দিঘীরপাড় ফাযিল মাদরাসাসহ কয়েকটি গ্রাম। প্রতিবছর ঢলে ক্ষতিগ্রস্তের পর জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সাময়িক নড়েচড়ে বসলেও পরে আর খবর থাকেনা। অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড এই নদীতে বেড়িবাঁধের মাপযোগ করেই কাটিয়ে দিয়েছে প্রায় দুই যুগ। ফলে বেড়িবাঁধ না থাকায় ঝিনাইগাতীর মহারশি নদী এখন স্থানীয় জনগণের কাছে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

চলতি বছরের তৃতীয় পাহাড়ি ঢলে রামেরকুড়া পূর্বপাড়া, খৈলকুড়া, দিঘীরপাড়সহ ৪টি জায়গায় নদীর পাড় ভেঙ্গে যায়। এতে দিঘীরপাড় গ্রামে তিনটি বাড়ীঘর ঢলের পানিতে দুমড়ে মোচড়ে ভেঙ্গে গিয়ে সেখানে গভীর খাদে পরিণত হয়েছে। সেখানে আরো কয়েকটি বাড়ীঘর ব্যাপক হুমকির মুখে রয়েছে।এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. ফারুক আহমেদ বলেন, আশ্বাসে আর প্রতিশ্রুতিতে কেটে গেছে প্রায় দুই যুগ। এখন আর আশ্বাস নয়, আমরা চাই বেড়িবাঁধ নির্মাণের বাস্তবায়ন। এর জন্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যকে নদী খনন সহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে অনুরোধ করছি।

ঝিনাইগাতী সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো.শাহাদৎ হোসেন বলেন, প্রতি বছর পাহাড়ী ঢলের পানিতে নদীর পাড় ভেঙ্গে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকার বাড়ীঘর, ফসলী জমি, মাছের পুকুর সহ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ঝিনাইগাতীতে প্রতিবছর এই ক্ষতি থেকে বাঁচাতে ইউনিয়ন বাসীদের পক্ষ থেকে তিনি মহারশি নদীতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের অনুরোধ করেন।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা জানান, উপজেলাবাসীদের রক্ষায় এই নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বিকল্প নেই।
উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল কবীর রাসেল জানান, পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি পরিবারের প্রত্যেককে ৬হাজার টাকা আর ২বান্ডেল করে ঢেউটিন দেয়া হয়েছে। নদীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্যে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ভাঙ্গন গুলোতে ইতিমধ্যেই জিও ব্যাগ দ্বারা আপদকালীণ কাজ করা হচ্ছে। পাকা বাঁধ নির্মাণের জন্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত নির্মাণ করা হবে মহারশি নদীতে বেড়িবাঁধ। শেরপুর-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এ.ডি.এম শহিদুল ইসলাম জানান, মহারশি নদীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্যে জাতীয় সংসদে প্রস্তাব করেছি। আশা করি এই অর্থ বছরেই নির্মাণ করা হবে বেড়িবাঁধ।

শুধু আশ্বাস নয়, মহারশি নদীতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে দ্রুত পদক্ষেপ নিবে সরকার, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর
  • উপমা মুদ্রন, ৭৮/১ ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
  • সর্বসত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ জাতীয় দৈনিক নাগরিক
  • অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের যেকোন লেখা, ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনী।
Theme Customized BY Shakil IT Park