ঢাকা, ৩ জুন, ২০২৪ (দৈরাস):
ব্যভিচার ও বেলাল্লাপনার সীমা ছাড়িয়েছে রাজধানীর গুলশান ও বনানীসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক এলাকাগুলো। এসকল এলাকায় মানুষকে অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত করতে বডি মাসাজের নামে গড়ে উঠেছে স্পা সেন্টার, যার ব্যবহার করা হচ্ছে মিনি পতিতালয় হিসেবে। কোনো কোনো স্পা সেন্টার বিউটি পার্লারের ট্রেড লাইসেন্সে পরিচালিত হচ্ছে। আবার এর বেশিরভাগেরই নেই কোনো ট্রেড লাইসেন্সও।
এসকল অবৈধ স্পা সেন্টারগুলোর কোনো ধরনের বৈধতা না থাকায় সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। ওপর দিকে সরকারি ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ছেন স্পা সেন্টারগুলোর মালিকেরা।
এদিকে সিটি কর্পোরেশনের নিয়ম নীতিরও কোনো তোয়াক্কা না করেই বিভিন্ন আবাসিক ভবনে অতি মুনাফার আশায় ভবনের মালিকেরা বাণিজ্যিক ফ্লোর হিসেবে ভাড়া প্রদান করছেন এসকল অবৈধ স্পা ব্যবসায়ীদের।
রাজধানীর গুলশান ও বনানীতে প্রায় কত সংখ্যক এ সকল অবৈধ স্পা সেন্টার রয়েছে তার নেই কোনো সঠিক পরিসংখ্যানও। ব্যাঙের ছাড়ার মতো গড়ে ওঠা এসকল স্পা সেন্টারের ভিতরে অসামাজিক কার্যকলাপ এখন ওপেন সিক্রেট।
এবিষয়ে এলাকার সচেতন নাগরীকেরা জানান, স্পা সেন্টারগুলোর ভিতরে বডি মাসাজের নামে অবাধে পতিতাবৃত্তি চলছে। পতিতাবৃত্তির পাশাপাশি এরা মাদকেরও যোগান দিয়ে থাকে। মরণব্যাধি সৃষ্টিকারী মদ, ইয়াবা সহ বিভিন্ন মাদক ও দেহ ব্যবসা চলে স্পা সেন্টারের নামে।
গত ১১ জানুয়ারি, ২০২৩ তারিখে রাজধানীর গুলশান-২ এর ৪৭নং রোডের ২৫নং আবাসিক ভবনে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধে অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
এ সময় গুলশান ২ এর ৪৭ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে অবৈধ স্পা সেন্টারের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে অভিযান চালাতে গেলে দুই তরুণী ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েন। এর মধ্যে একজন মারা যান। ওই স্পা সেন্টার থেকে পরে সাতজনকে আটক করা হয়। এঘটনায় একটি মামলাও হয় স্পা সেন্টারের বিরুদ্ধে। কিছু দিন বন্ধ থাকলেও ফের ওই স্পা সেন্টারের কার্যক্রম চলছে দেদারসে। থেমে নেই সেই স্পা সেন্টার সহ গুলশানে অবস্থিত অন্যান্য স্পা সেন্টারের অবৈধ স্পা বাণিজ্য। জানা গেছে ঘটনার কয়েক মাস যেতে না যেতেই স্পা সেন্টারের মালিক শাহিনুর আক্তার পায়েল ও তার স্বামী হাসান স্পা নামক দেহব্যবসা চলমান রেখেছেন।

ছবি : শাহিনুর আক্তার পায়েল।
ওপর দিকে বনানী থেকে একাধিক মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা মাথায় নিয়ে গুলশান-১ এর রোড নং-১৩০, বাড়ী নং-২৮ এ স্পা সেন্টারের নাম দিয়ে দেহ ও মাদকের রমরমা বাণিজ্য পরিচালনা করছেন আয়েশা সিদ্দিকা লাবণী (ওরফে ইভা)।

ছবি : আয়েশা সিদ্দিকা লাবনী (ওরফে ইভা)।
এছাড়াও একাধিক মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা হওয়ার পরও বহাল তবীয়তে গুলশান-১ এর রোড নং-১৩১, বাড়ী নং-৬০/বি তে স্পা সেন্টারের নাম দিয়ে দেহ ও মাদকের রমরমা বাণিজ্য পরিচালনা করছেন রহিমা বেগম (ওরফে সুমনা, ওরফে সুলতানা) এবং তার স্বামী কখনো নাটকের পরিচালক আবার কখনো পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়দানকারী নারী পাচার চক্রের সদস্য এ কে হৃদয়। যার ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন, নারী পাচারকারী চক্রের দালাল নুরুল ইসলাম নাহিদ (ওরফে নাবিল হাসান)।

ছবি : সুলতানা ও তার স্বামী এ কে হৃদয়।
গুলশান এর রোড নং-২৪, বাড়ী নং-৯১/বি (রতন ক্যাসেল) এ রয়েছে দেহ ব্যবসায়ী মোঃ আবুল হোসেন (ওরফে শাওন)। যার ম্যানেজার হিসেবে রয়েছেন, নারী পাচারকারী চক্রের দালাল কামাল।

ছবি : মো: শাওন
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দালাল চক্রের দ্বারা খদ্দের আকৃষ্ট করে এ অসাধু ব্যবসায়ীরা।
স্পা সেন্টারগুলো বিরুদ্ধে অভিযোগ দির্ঘ দিনের। অভিযোগ থাকলেও প্রতিকার নেই বললেই চলে, বলছেন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসিরা বলছেন, স্পা সেন্টারগুতে অবৈধ কার্যকলাপ চলে, চলে মাদকের আখড়াও। আমাদের ছেলে মেয়েদের এ থেকে রক্ষা করা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আমরা কাজ কর্ম বাদ দিয়ে সারা দিন ছেলে মেয়েদের পেছনে পরে থাকবো তার কোন উপায় নেই। পুলিশ প্রসাশন মাঝে মধ্যে দু একটি অভিযান করলেও কিছু দিন পরে আবারও স্পা সেন্টারগুলো চালু করে। প্রসাশনের নিকট আমাদের আবেদন তারা যেনো এ ধরনের অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করা ব্যবস্থা নেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এসকল স্পা সেন্টারে সমাজের বৃত্তবান লোকেদের আনাগোনাই বেশি। যার ফলে অনেকে স্পা সেন্টারে ঢুকে অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে প্রতারণারও স্বীকার হচ্ছেন। সমাজে মান সম্মানের ভয়ে অনেকে আবার মুখ খুলছেন না আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। ফলে অবৈধ স্পা সেন্টারগুলোর দৌরাত্ম দিন দিন বেড়েই চলেছে।
ধারবাহিক প্রতিবেদন…