ঢাকা, ২৫ মে, ২০২৪ (দৈরাস):
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার (২৫ মে, ২০২৪ ইং) রাজধানীর বঙ্গবাজারে ‘বঙ্গবাজার নগর পাইকারি বিপণী বিতান’, পোস্তগোলা ব্রিজ থেকে রায়েরবাজার স্লুইসগেট গেট পর্যন্ত আট সারির ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মণি সরণি (ইনার সার্কুলার রিং রোড)’, ধানমন্ডি হ্রদে ‘নজরুল সরোবর’ এবং শাহবাগে ‘হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী শিশু উদ্যান’ আধুনিকীকরণ শীর্ষক ৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত বিবরণী-
বঙ্গবাজার নগর পাইকারি বিপণী বিতান-
১০তলা বিশিষ্ট বঙ্গবাজার নগর পাইকারি বিপণিবিতানে পাঁচটি সাধারণ সিঁড়ি ও ছয়টি অগ্নি প্রস্থান সিঁড়িসহ পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিপণী বিতানের প্রতিটি ব্লকের জন্য আলাদা বাহির ও প্রবেশদ্বার থাকবে। ভবনে বৈদ্যুতিক যান্ত্রিক কক্ষ এবং প্রতিটি ব্লকের প্রতি তলায় চারটি করে শৌচাগার থাকবে। এ ছাড়া ভবনের ভূমিতলে ১৬৯টি গাড়ি ও ১০৯টি মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের সুবিধা থাকবে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৯৬১ জনের সবাইকে বঙ্গবাজার নগর পাইকারি বিপণী বিতানে পুনর্বাসন করা হবে। এছাড়াও, পুড়ে যাওয়া মার্কেটে ব্যবসায়ীরা ১৭ থেকে ২২ বর্গফুট আয়তনের দোকানে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। নতুন বিপণী বিতানে প্রতিটি দোকানের আয়তন হবে ৮০ থেকে ১২০ বর্গফুট। ৩৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মণি সরণি-
পোস্তগোলা ব্রিজ থেকে রায়েরবাজার স্লুইসগেট গেট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের আট সারির বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মণি সরণি নির্মাণ করা হচ্ছে। ৯৭৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের আওতায় ১০ কিলোমিটার নর্দমা(ড্রেন), ১০ কিলোমিটার পথচারী হাঁটার পথ(ফুটপাত), ৩টি উড়াল সেতু (ভেহিকেল ওভারপাস), ৩টি পথচারী পারাপার সেতু(ওভারব্রিজ), দুই কিলোমিটার সংরক্ষণকারী দেয়াল(রিটেইনিং ওয়াল), তিনটি মসজিদ, ছয়টি যানবাহন বিরতির স্থান(বাস-বে) ও ছয়টি যাত্রীছাউনি নির্মাণ করা হবে। এতে ঢাকা শহরের ভেতরে বাস, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ কমার পাশাপাশি বহুলাংশে যানজট নিরসন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
নজরুল সরোবর-
নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ২৩ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ধানমন্ডি হ্রদের (ধানমন্ডি ১৩/এ ও ৮/এ আবাসিক এলাকা সংলগ্ন) ৫০.৯৬৭ কাঠা এলাকা জুড়ে নজরুল সরোবর নির্মাণ করা হচ্ছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মরণে ‘নজরুল সরোবর’ নামের উন্মুক্ত বিনোদন মঞ্চে একটি ঘাটলা, উন্মুক্ত মিলনায়তন, পথচারীদের হাঁটার পথ, গণপরিসর, রেস্তোরাঁ, বসার স্থান (বেঞ্চ), দৃষ্টিনন্দন বাতি, পর্যাপ্ত সবুজায়ন ও শব্দযন্ত্র (সাউন্ড সিস্টেম) স্থাপনের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও নজরুল ইসলামের স্মৃতিময় মুহূর্ত ও সাহিত্যকর্ম সংবলিত ফলক স্থাপন করা হবে। ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী শিশু উদ্যান আধুনিকীকরণ-
শাহবাগে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী শিশু উদ্যানের আধুনিকীকরণ (শাহবাগে জিয়া শিশু পার্কের নতুন নাম হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী শিশু উদ্যান করা হয়েছে) প্রকল্পের মাধ্যম প্রায় ৬০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই শিশু উদ্যানের আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। ১৯৭৯ সালে স্থাপিত এই পার্কে আগে ১১টি রাইড ছিল। আধুনিকায়নের মাধ্যমে সেখানে মেগা ডিস্ক’ও (Disk’O Mega), সুপার এয়ার রেস (Super Air Race), ফ্লাইং ক্যারোস্যাল (Flying Carrousels), গ্যালিয়ন (Galleon), ১২ডি থিয়েটার (12D Theatre), মাইন কোস্টার (Mine Coaster), ক্লাইম্বিং কার (Climbing Car), সুপার হ্যাপী সুইং (Super Happy Swing), ওয়াটার ম্যানিয়া (Water Mania)-সহ অত্যাধুনিক নতুন ১৫ ধরনের রাইডস বসানো হবে।
এছাড়াও আগত দর্শনার্থীদের জন্য শৌচাগার, চত্বর(প্লাজা), রেস্তোরাঁ, বিশ্রামস্থল (শেল্টার শেড), প্রশস্ত হাঁটার পথ, বসার আসন (বেঞ্চ), বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন ইত্যাদি প্রয়োজনীয় সুবিধাদি সংযোজন করা হয়েছে। ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।