রোকনুজ্জামান রুবেল, জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
জয়পুরহাট জেলায় আক্কেলপুর উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে গোপীনাথপুরে প্রায় পাঁচ শত বছরের ঐতিহ্যবাহী গোপীনাথপুর দোলপূর্ণিমা মেলা শুরু হয়েছে। প্রতিবছর দোলপূর্ণিমার দিন থেকে মেলাটি শুরু হওয়া মেলাটি ১৩ প্রহরব্যপী চলে।
মেলা শুরুর দিন থেকে পাঁচ দিন ঘোড়া, মহিষ ও গরু কেনাবেচা চলে। মেলায় কাপড়-জুতা, ছাতা, গৃহস্থালি সামগ্রী, মসলা, কাঠের ও প্লাস্টিকের আসবাব, কম্বলসহ নানা রকমের দোকানপাট বসে। এসব দোকানি রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন এলাকার।
গোপীনাথপুর দোলপূর্ণিমা মেলা কমিটি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাড়ে ৫০০ বছর আগে ১৪৯২ থেকে ১৫৩৫ সালে শাসক নবাব আলাউদ্দিন হোসেন শাহ জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুরে বেড়াতে আসেন। ওই সময় এখানে নন্দিনী প্রিয়া নামে এক সাধকের আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে নবাব সাধককে প্রায় ৬০৪ একর জমি লাখেরাজ দান করে দিয়ে যান, যার উৎস থেকে প্রতি বছর দোল যাত্রা ও মেলা উৎসব চলে আসছে।
সাড়ে ৫০০ বছরের পুরনো এ মেলা শুরু থেকেই ঘোড়ার জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। স্বাধীনতার পরও মেলায় নেপাল, ভুটান, ভারত, পাকিস্তান সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে উন্নত জাতের ঘোড়া আসতো। বর্তমানে ময়মনসিংহ, জামালপুর টাঙ্গাইল, বগুড়া, নওগাঁ, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঘোড় সওয়ারি ও ঘোড়া মালিকরা এ মেলায় ঘোড়া নিয়ে আসেন।
টাঙ্গাইল থেকে মেলায় আসা ঘোড়া ব্যবসায়ী সামছুল ইসলাম বলেন, ৩০ বছর ধরে তিনি গোপিনাথপুর দোল মেলায় ঘোড়া কেনা বেচা করতে আসেন। এ বছর তিনি ছোট বড় বিভিন্ন জাতের ১৮টি ঘোড়া নিয়ে এসেছেন। এবারের মেলায় বেশ কয়েকটি বড় ঘোড়া এসেছে। এরমধ্যে ভারতীয় তাজি জাতের একটি ঘোড়ার দাম হাঁকছেন ১২ লাখ টাকা। ক্রেতারা দাম বলছেন ৮ লাখ টাকা। রমজান মাস হওয়াতে ক্রেতার সংখ্যা কম। ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা হয়। এই প্রতিযোগিতায় যে ঘোড়া বেশি দৌড়াবে সেই ঘোড়াটির দাম ও চাহিদা দুটোই বেশি থাকে।
মেলার আশপাশের প্রায় ১৫ থেকে ২০টি গ্রামে মেয়ের বিয়ে যে সময়েই হউক না কেন। উপহার হিসেবে ঘর সাজানোর আসবাবপত্র মেলা থেকে ক্রয় করা হয়। এক কথায় মেলাকে ঘিরে উৎসবের আমেজ চলে। তবে বিনোদনের ব্যবস্থা কমে যাওয়ায় মেলার জৌলুশ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। তাই সুস্থ বিনোদনের মাধ্যমে মেলার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার দাবি জানান স্থানীয়রা।
গোপীনাথপুর দোলপূর্ণিমা মেলা কমিটির সভাপতি ও গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি মেলা কমিটিও মেলার সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। এত পুরনো মেলা উত্তরবঙ্গের কোথাও নেই। এটি একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা। মেলাটি প্রশাসনের অনুমতি ১৩ দিনের হলেও চলে মাসব্যাপী।