1. admin@weeklyprekkhapot.com : admin :
ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে মা ও মেয়ের আত্মহত্যা - জাতীয় দৈনিক নাগরিক
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লালন সাঁইয়ের মানবতা ও সম্প্রীতির দর্শন ধারণ করে মানবিক সমাজ গড়তে হবে : খাদ্যমন্ত্রী দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে শ্রী শ্রী মা ভবতাঁরা মন্দির পরিদর্শনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর গভীর শোক প্রকাশ বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী রাজার মাঠে শারদীয় দুর্গাপূজা ও শারদ মেলার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন স্কুল পর্যায়ে ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিতে চীনে যাচ্ছেন সিরাজদীখানের তানভীর ও মাহিম এলাকার উন্নয়নে নিরন্তর কাজ করে যেতে চাই : আসাদুল হাবিব দুলু পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইলসহ অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে পরীক্ষার্থীর ১ মাসের কারাদণ্ড শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপহার দিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু খাদ্যের পরিমাণ নয়, গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে : কৃষিমন্ত্রী অপতথ্যের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীগণকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর

ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে মা ও মেয়ের আত্মহত্যা

মীর ইকবাল হোসেন, যশোর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৫ মার্চ, ২০২৪
  • ১৭৩ বার পঠিত
ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে মা ও মেয়ের আত্মহত্যা
প্রতীকী ছবি

মীর ইকবাল হোসেন, যশোর প্রতিনিধি:
যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি পোলতাডাঙ্গা শ্মশানঘাট সংলগ্ন রেললাইনের পাশ দিয়ে মেয়ের হাত ধরে হাঁটছিলেন এক নারী। বিপরীত দিক থেকে আসছিলো ট্রেন। ট্রেনটি কাছে আসতেই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে রেললাইনের উপর দাঁড়ালে ঘটনাস্থলেই মারা যান মা ও মেয়ে।
সোমবার (২৫ মার্চ, ২০২৪ ইং) দুপুর আড়াইটার দিকে বেনাপোল থেকে যশোর হয়ে ঢাকাগামী ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেনে ওই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানায়, ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে আত্মহত্যা করা নারীর পরনে ছিল কালো বোরকা। তার নাম লাকী বেগম(৩৫)। সেলোয়ার কামিজ পড়া মেয়ের নাম সামিয়া আক্তার মিম(১২)। লাকী উপজেলার বড় হৈবতপুর গ্রামের মকছেদ আলীর মেয়ে। মা-মেয়ে স্থানীয় সাতমাইল বাজারে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। আর মিম স্থানীয় বড় হৈবতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ফাঁকা মাঠের মধ্যে রেল লাইনের পাশে বসে মা-মেয়ে জন্মদিনের কেক খাচ্ছিলেন। কেক খাওয়ার মধ্যে ট্রেন চলে আসে। কালো বোরকা পড়া ওই নারী তার মেয়ের হাত ধরে ট্রেন লাইনের ওপরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু বারবার মেয়েটি তার মায়ের হাত জোর করে ছাড়ানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু মা তার মেয়েটিকে নিয়ে জোর করে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মা-মেয়ে মারা যান।
তিনি আরও বলেন, বাঁচার জন্য মেয়েটি তার মায়ের হাত অনেকবার ছাড়ানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু মা তার মেয়েটির হাত ছাড়েনি।
রেললাইনের পাশেই একটি বড় মেহগনি গাছের নিছে কান্না করছেন নিহত লাকী বেগমের ছোট বোন রোজিনা বেগম। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, বছর ১২ আগে পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার কবিরুলের সঙ্গে বিয়ে হয় লাকীর। সেই ঘরের সন্তান হলো মিম। মিম হওয়ার বছর চারেক পর লাকীকে ডির্ভোস দেয় কবিরুল। এরপর তিনি বাবার বাড়িতে বসবাস করতে থাকেন। এরমধ্যে বড় হৈবতপুর গ্রামের এজাজুল ইসলামের সঙ্গে লাকী সম্পর্ক করে বিয়ে করেন। এই বিয়ের বছর দেড়েক পর এজাজুলও লাকীকে ডির্ভোস দেয়। ডির্ভোসের পর মেয়েকে নিয়ে লাকী স্থানীয় সাতমাইল বাজারে ভাড়া থাকতে শুরু করে। মাস তিনেক আগে আবারও এজাজুল লাকীকে বিয়ের করার প্রতিশ্রুতি দেয়। মাঝে মধ্যে এজাজুল লাকীর বাসাতে যাতায়াত শুরু করে। তিন মাসের মধ্যে এজাজুল লাকীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেও এজাজুল বিয়ে না করার তালবাহানা করে। এতে মেয়েকে নিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন লাকী।
লাকীর বোন রোজিনা বেগম আরও বলেন, এজাজুল বিয়ে না করার তালবাহানা শুরু করাতে বিভিন্ন সময়ে আমার বোন আত্মহত্যার হুমকি দিতো। সোমবার সকালে ডাক্তার দেখানোর নাম করে আমার বোন ও তার মেয়ে মিমকে নিয়ে শহরে যান। আত্মহত্যার আগে মেয়েকে ভুলিয়ে রাখতে কিনেছিলেন জন্মদিনের কেক ও কোমল পানীয়। এরপর মিমের প্রিয় কেক নিয়ে তারা রেল লাইনের কাছে যায়। কিন্তু সেগুলো খেতে খেতেই মেয়েকে জোরপূর্বক টেনে হিঁচড়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন লাকী।
তিনি অভিযোগ করেন, এজাজুল বারবার বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিয়ে না করায় তার বোন মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। সেই হতাশার জায়গা থেকে তার বোন আত্মহত্যা করতে পারে বলে জানান তিনি।
ঘটনার পরেই ঘটনা স্থলে যায় জেলা ডিবি পুলিশের একটি টিম। জেলা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক মফিজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে এলাকাবাসী ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করে দুর্ঘটনার খবর জানায়। এরপর আমরা এসে দেখি ট্রেন লাইনের উপরে দুইজনের মরদেহ পড়ে রয়েছে। কাছে থাকা মোবাইল ফোন থেকে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারী মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে কি কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন তা এখনও জানা যায়নি। মরদেহের পাশ থেকে একটি বড় আকারের কেক, একটি মোবাইল ফোন ও দুটি ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া গেছে। রেলওয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে।
যশোর রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মনিতোষ বিশ্বাস জানান, খবর পেয়ে ট্রেনে কাটা মা ও মেয়ের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। এরপর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছেন। তবে কেন এবং কি কারণে মেয়েকে নিয়ে ওই নারী আত্মহত্যা করলেন তা এখনও জানা যায়নি।

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর
  • উপমা মুদ্রন, ৭৮/১ ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
  • সর্বসত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ জাতীয় দৈনিক নাগরিক
  • অনুমতি ছাড়া এই ওয়েব সাইটের যেকোন লেখা, ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনী।
Theme Customized BY Shakil IT Park