নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাকম্যানসের চতুর্থ আন্তর্জাতিক ভাষা প্রতিযোগিতা’র উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বাংলা বিতর্ক বিভাগে জাতীয় পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নটরডেম কলেজকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বরিশালের সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের বিতর্ক দল।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাকম্যানসের চতুর্থ আন্তর্জাতিক ভাষা প্রতিযোগিতা’-এর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বাংলা বিতর্ক বিভাগে এ সাফল্য অর্জন করে দলটি। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছে রাজধানীর নটরডেম কলেজ এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কলেজ।
চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা হলেন—দলনেতা সাইফ সালাহউদ্দীন, হাসিবুর রহমান রাজা এবং মোসা. জোবায়েদা আক্তার জেরীন। তাঁদের সম্মিলিত প্রস্তুতি, যুক্তিনির্ভর উপস্থাপনা, তাৎক্ষণিক বিশ্লেষণ ও দলগত সমন্বয় এ সাফল্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের বিতর্কচর্চা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সক্ষমতা নতুন করে তুলে ধরেছে দলটি। এ অর্জনে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোঃ আখতারুজ্জামান খান বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ে নটরডেম কলেজের মতো একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে—এটি নিঃসন্দেহে আমাদের কলেজের জন্য অত্যন্ত আনন্দের, গর্বের ও সম্মানের বিষয়। আমি বিজয়ী বিতর্ক দলের প্রত্যেক সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। তাদের এ অর্জন প্রমাণ করে, সঠিক দিকনির্দেশনা, অধ্যবসায়, নিয়মিত অনুশীলন এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে বরিশালের শিক্ষার্থীরাও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারে। “শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা কিংবা সনদ অর্জন করা নয়; বরং শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, যুক্তিবোধ, সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিতর্কচর্চা শিক্ষার্থীদের যুক্তির মাধ্যমে নিজের মতামত প্রকাশ করতে, অন্যের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনতে এবং ভিন্নমতকে সম্মান করতে শেখায়। এ ধরনের প্রতিযোগিতা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, আমি চাই, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ দেশের একটি সেরা কলেজ হোক। সেই লক্ষ্য অর্জনে পড়াশোনার পাশাপাশি বিতর্ক, সাহিত্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। আমাদের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতেও এমন সাফল্য অর্জন করবে এবং কলেজের সুনাম দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেবে—এটাই আমার প্রত্যাশা। এ সাফল্যের পেছনে যাঁরা শ্রম দিয়েছেন, বিশেষ করে বিতর্ক দলের পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রতিও আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা রইল।
কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোসা. মেহবুবা আলম বলেন, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের শিক্ষার্থীদের এ অসাধারণ সাফল্যে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। জাতীয় পর্যায়ের একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নটরডেম কলেজকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়া সহজ কোনো বিষয় নয়। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায়, মানসিক দৃঢ়তা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নিজেদের সেরাটা দেওয়ার মানসিকতা। আমাদের শিক্ষার্থীরা সেই যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে। আমি বিজয়ী দলের তিনজন শিক্ষার্থীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।
তিনি বলেন, বিতর্ক এমন একটি বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, যা শিক্ষার্থীদের শুধু কথা বলতেই শেখায় না, বরং কীভাবে চিন্তা করতে হয়, কীভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করতে হয় এবং কীভাবে যুক্তির ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হয়, তা শেখায়। একজন ভালো বিতার্কিককে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের যুক্তি বোঝার এবং তার যথাযথ জবাব দেওয়ার দক্ষতাও অর্জন করতে হয়। এসব গুণ একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা, কর্মজীবন ও সামাজিক নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে। আমি মনে করি, আমাদের কলেজের প্রতিটি শিক্ষার্থীর মধ্যেই সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন সেই সম্ভাবনাকে চিহ্নিত করা, উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা এবং নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে উৎসাহিত করবে। আমি আশা করি, কলেজের বিতর্ক দল এ অর্জনকে সামনে রেখে আরও বড় পরিসরে নিজেদের দক্ষতা বিকশিত করবে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কলেজের জন্য আরও সুনাম বয়ে আনবে।
সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের বিতর্ক দলের পরিচালক ও বাংলা বিভাগের প্রভাষক মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, এ অর্জন আমাদের দলের জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। একটি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে শুধু মঞ্চে বক্তব্য উপস্থাপনই নয়, বরং বিষয়বস্তু সম্পর্কে গভীর ধারণা অর্জন, তথ্য সংগ্রহ, যুক্তি সাজানো, প্রতিপক্ষের বক্তব্য বিশ্লেষণ, পাল্টা যুক্তি তৈরি এবং দলগত সমন্বয়ের মতো অনেক বিষয় কাজ করে। আমাদের শিক্ষার্থীরা এসব ক্ষেত্রে আন্তরিকতার সঙ্গে পরিশ্রম করেছে। তাদের সেই পরিশ্রমের ফল আজকের এই সাফল্য।দলনেতা সাইফ সালাহউদ্দীন, হাসিবুর রহমান রাজা ও জোবায়েদা আক্তার জেরীন প্রত্যেকে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করেছে। বিতর্কের প্রতিটি পর্বে সময়ের সঠিক ব্যবহার, যুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চ্যাম্পিয়ন সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ দলের সদস্যরা হলেন— সাইফ সালাহউদ্দীন (দলনেতা), হাসিবুর রহমান রাজা, মোসা. জোবায়েদা আক্তার জেরীন প্রতিযোগিতার ফলাফল অনুযায়ী, নটরডেম কলেজ প্রথম রানারআপ এবং চট্টগ্রাম বন্দর কলেজ দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে।
সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের এ সাফল্য শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর জ্ঞানচর্চা, ভাষাগত দক্ষতা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের গুরুত্বকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। বিজয়ী দলের এ অর্জন কলেজের অন্যান্য শিক্ষার্থীকেও বিতর্কচর্চা ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।