রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে চায়না প্রজেক্ট সংলগ্ন সরকারি পানি নিষ্কাশন খাল ভরাট বন্ধ, জলাবদ্ধতা নিরসন, ফসলি জমি রক্ষা এবং খাল ভরাটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন ও স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে গোদাগাড়ী পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা ও কৃষকদের পক্ষে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। বিশেষ করে জাহানাবাদ ও সারংপুর গ্রামের বাসিন্দারা এতে অংশ নেন।
গোদাগাড়ী সামাজিক সংগঠন ‘ঐক্য পরিষদ’-এর সভাপতি রেজাউল করিম জুয়েলের নেতৃত্বে স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন বিশ্বাস, গোদাগাড়ী পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এমদাদুল হক মুকুল, প্রতিবন্ধী অধিকার সংরক্ষণ সংস্থার সভাপতি নজরুল ইসলাম, সমাজ ও মানব কল্যাণ সংঘের মহাসচিব নুরে আলম অহিদসহ স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকরা।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গোদাগাড়ী পৌরসভার সারংপুর মৌজায় জেএল নম্বর-১৮২, আরএস খতিয়ান নম্বর-২৩৭ এবং দাগ নম্বর-৬০৬/৮১৪ এলাকায় প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সরকারি পানি নিষ্কাশন খাল রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ খাল ও সংলগ্ন খাড়ি দিয়ে গোদাগাড়ী পৌরসভা ও পার্শ্ববর্তী বাসুদেবপুর ইউনিয়নের বর্ষার পানি ও বিলের পানি নিষ্কাশিত হয়ে পদ্মা নদীতে গিয়ে পড়ে। এ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে এলাকার কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছেন।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, গোদাগাড়ী সরকারি কলেজের পেছনে এবং চায়না প্রজেক্টের পাশে খালের শেষ প্রান্তে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রীমন্তপুর গ্রামের মৃত জবেদ আলীর ছেলে মো. গোলাম মোস্তফাসহ কয়েকজন গত এক থেকে দেড় মাস ধরে সরকারি খালের পাড় নিজেদের দাবি করে সেখানে মাটি ফেলে ভরাট করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, খালের পানি প্রবাহের পথ বন্ধ ও ভরাটের কারণে এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং শত শত একর ফসলি জমি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করা হলে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
এ অবস্থায় সরকারি খালের ভরাট বন্ধ, খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা, জলাবদ্ধতা নিরসন, ফসলি জমি রক্ষা এবং অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, আবেদনটি পেয়েছি। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।