মুন্সীগঞ্জ, ২৬ জুলাই ২০২৬ (জাসাপ্রে);
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে সরকারি খাল খনন কাজে অনিয়মের ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রশুনিয়া খালের দানিয়াপাড়া ব্রিজের পূর্ব পার্শ্ব হতে মোতার জাহান বাড়ির দক্ষিণ পার্শ্ব পর্যন্ত খাল পুনঃখননে ব্যাপক অনিয়মের পাওয়া যায়।
সরজমিনে তদন্তে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান (ইজিপিপি) খাল পুনঃখননে নথিপত্র শ্রমিক থাকলেও ভেকু দিয়ে কাজ করা হয়। ১.২ কি.মি (১২০০ মিটার) খাল খননে মাত্র ৬০০ মিটার কাজ করে প্রকল্প শেষ করে। প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি অনুযায়ী টাকা উত্তোলনের নিয়ম থাকলেও (২৫ এপ্রিল) খাল খনন শুরু করে (৩০ এপ্রিল) ৩৬৩১১০৭ ক্রমিক নং ও ০০০২৩৭৯৭ নম্বর ট্রোকেনে প্রকল্পের সম্পূর্ণ ৪৬ লাখ ৩৯ হাজার ২৫ টাকা উত্তোলন করা হয়।
প্রকল্প কমিটির চেয়ারম্যান উপজেলার রশুরিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ইকবাল দিদার নিজের ভেকু দিয়ে কাজ করেন। ৬০০ মিটার খাল খননে ভেকুর ভাড়া সাড়ে ৫ লাখ টাকা নেন দিদার। খননের মাটি খালের দুই পাড়ে রাখাতে বর্ষা মৌসুম শেষে খনন মাটি দিয়ে খাল ভরাট হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। প্রকল্প থেকে অবশিষ্ট প্রায় ৩০ লাখ টাকা দীর্ঘদিন পার হলেও সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়নি।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ১.২ কি.মি. দৈর্ঘ্য খাল খননের প্রাক্কলিত মাটির কাজের পরিমাপ ৪ লাখ ২১ হাজার ৭২১ ঘনফুট, ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকা উপকারভোগী শ্রমিকের মজুরি, ২৪ লাখ ৯৪ হাজার ৭৪৫ টাকা নন-ওয়েজ কষ্ট, ৪ হাজার ২৮০ টাকা সর্দার ভাতা, দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে উপকারভোগী শ্রমিকের সংখ্যা ১০৭ জন, ৪০ দিনের কর্মসূচিতে (২৫ এপ্রিল) থেকে (১৩ জুন ২০২৬) ইং প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।
এবিষয়ে প্রকল্প চেয়ারম্যান ইকবাল দিদার জানান, আমরা ৬০০ মিটার কাজ করতে পেরেছি। সব কাজ শেষ করতে পারি নাই। ১৭ লাখ টাকা লাগছে এখানি কাজ করতে। অতিরিক্ত পানি সেচ করতে হইছে। ব্যাটারি চুরি হইছে। তেলের দাম বেশী লাগছে। ভেকু দিয়া কাজ করছি। কাজ করে লাভ হয় নাই।
উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মোছাঃ সাজেদা সরকার বলেন, আমাদের ১৭ লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হইছে। অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৯১ হাজার ৫২৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে দিবো। অনলাইনে চালানের মাধ্যমে জমা দিতে হয়। অনলাইনে সমস্যার কারনে জমা দিতে পারি নাই। আজ কালকের মধ্যে টাকা জমা দিয়ে দিবো।