মুন্সীগঞ্জ, ০৭ মার্চ ২০২৬ (প্রেক্ষাপট ডটকম):
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ফসলি জমির মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে ইট উৎপাদনের অভিযোগে প্রশাসনের অভিযান চালিয়ে মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়ার পর উল্টো মাটি সরবরাহের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইটভাটা মালিক ও শ্রমিকরা। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
শনিবার (০৭ মার্চ) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দি ইউনিয়নের রামকৃষ্ণদি এলাকায় ইটভাটা মালিক সমিতি ও শ্রমিকদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচি হয়। এতে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ শ্রমিক ও ইটভাটা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিরাজদিখানের লতব্দি ইউনিয়ন এলাকায় বৈধ ও অবৈধভাবে পরিচালিত প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি ইটভাটায় দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমির মাটি কেটে ইট উৎপাদন করা হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে এলে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর নির্দেশনায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত ভেকু মেশিন বিকল করে দেওয়া হয়। ফলে ইটভাটাগুলোতে মাটির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৩সালের ইট প্রস্তুত স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইনের ৫ (ক) ধারায় বলা আছে কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে ইট তৈরি কাজে ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু ইটভাটা মালিকরা তা মানতে নারাজ। প্রশাসন অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে ইট প্রস্তুত করায় অপরাধে অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দেয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে মাটিকাটা সিন্ডিকেট মালিক সমিতি ও শ্রমিকদের সংগে নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, মাটি সরবরাহ বন্ধ থাকায় ইট উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং অনেক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে বৈধ ইটভাটাগুলোতে পুনরায় মাটি সরবরাহের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।
এ মানববন্ধনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ভূমিদস্যু আইন অমান্য করে ফসলি জমির উর্বর মাটি কাটার চেষ্টা করছে এবং সেটিকে বৈধতা দেওয়ার জন্য নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, সাধারণত অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়। কিন্তু এখানে উল্টো ফসলি জমির মাটি কাটার দাবিতে মানববন্ধন করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত হাস্যকর ও দুঃখজনক।
সচেতন মহলের মতে, ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পরিবেশের উপরও বিরূপ প্রভাব পড়বে। তাই কৃষি জমি রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখা জরুরি বলে তারা মনে করেন।